...|...|...

সারাদেশ

ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুতে বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:৪৪ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:১৬
Shares
ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুতে বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ, মাগুরা। ছবি: টাইমস টুডে

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী (গণনাকারী) ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে।

রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারীরা বিক্ষোভ ও উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। অন্যদিকে, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরীর অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীরা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ দাবি করে আনন্দ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে। 

বিক্ষোভ চলাকালে রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারীরা ইউএনওকে দোষারোপ করে  ‘ঘুষখোর ইউএনও, পালাইছে রে পালাইছে, ইউএনও পালাইছে!’ সহ নানা ধরনের স্লোগান দেন। এ সময় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু, সাবেক সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুর আমিন সজিব শিকদার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. পারভেজ প্রমুখ।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু অভিযোগ করে বলেন, মহম্মদপুরের ইউএনও গোপনে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা ইউএনও মহোদয়কে আগেই বলেছিলাম যেন সঠিকভাবে যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের অঙ্গসংগঠনের অভিজ্ঞ নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি ইউএনওকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনি এখানে চাকরি করতে চাইলে এই ধরনের বৈষম্য থেকে আপনাকে বিরত থাকতে হবে। আপনি যদি সঠিকভাবে চলাফেরা করতে চান তাহলে এই বৈষম্য নিয়ে চলতে পারবেন না। আপনি আমাদের দুর্বল মনে করবেন না।

অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরীর অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান। মহম্মদপুরে কৃষকদলের আংশিক কমিটি গঠনে আনন্দ মিছিল শেষে আন্দোলনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উপজেলা বিএনপির অপর এক অংশ।

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মৈমূর আলী মৃধা বলেন, ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সরকারকে সহযোগিতা করছেন। দলেরই একটি সুবিধাবাদী অংশ সরকার এবং স্থানীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরীকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। মহম্মদপুরের মাটিতে কোনো ছিনতাইকারী ও বিশৃঙ্খলাকারীর জায়গা হবে না।

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী বাছাইয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। নির্বাচিত তালিকায় জামায়াত, বিএনপি এবং স্থানীয় সাধারণ সব পক্ষেরই মানুষ রয়েছে। ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।