...|...|...

সারাদেশ

ফেসবুকে প্রেম, মুঠোফোনে বিয়ের পর প্রবাসী জানলেন ‘সুমাইয়া’ আসলে ছেলে

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৩৫
Shares
ফেসবুকে প্রেম, মুঠোফোনে বিয়ের পর প্রবাসী জানলেন ‘সুমাইয়া’ আসলে ছেলে

অভিযুক্ত তরুণ শান্ত আলী। ছবি: সংগৃহীত

ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির সাথে ফেসবুকে নারীর পরিচয়ে যোগাযোগ করে মুঠোফোনে বিয়ের পর কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাটোরের লালপুরের এক তরুণের বিরুদ্ধে। নিজেকে সুমাইয়া নামে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি পরে যে নারী নন, বরং শান্ত আলী নামের এক তরুণ তা জানতে পারেন প্রবাসী খোরশেদ আলী (৪৮)। এ ঘটনায় শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে লালপুরের গন্ডবিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে। পরে ওই মুঠোফোনে খোরশেদ আলীর সাথে কথোপকথন ও খুদে বার্তা আদান-প্রদানের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

খোরশেদ আলীর ভাষ্য, প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে সুমাইয়া নামে এক নারীর সাথে তার পরিচয় হয়। পরে মেসেঞ্জারে নিয়মিত কথাবার্তা চলতে থাকে। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং মুঠোফোনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করেন।

বিয়ের পর স্ত্রীকে ভিডিও কলে দেখতে চাইলেও প্রতিবারই কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে নিজেকে আড়ালে রাখতেন কথিত সুমাইয়া। কখনো মুঠোফোনের সামনের ক্যামেরা নষ্ট থাকার কথা বলা হতো। এভাবে দীর্ঘদিন তার চেহারা দেখতে পারেননি খোরশেদ।

এর মধ্যে কথিত স্ত্রীর ভরণপোষণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলে খোরশেদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকার বেশি নেওয়া হয় বলে তার অভিযোগ। বাড়ির পাশে জমি কেনার কথা বলে একদিনেই প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় পড়ার কথা বলেও তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বুধবার দুপুরে খোরশেদ ওই নম্বরে ভিডিও কল করলে ফোনটি ধরেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তখনই পুলিশ তাকে জানায়, এতদিন যাকে সুমাইয়া নামে নারী মনে করে তিনি বিয়ে করেছেন, সেই ব্যক্তি আসলে শান্ত আলী নামের এক তরুণ।

পুলিশের ভিডিও কলে প্রথমবার কথিত স্ত্রীকে দেখে খোরশেদ বলেন, এমনভাবে প্রতারণা করা সম্ভব, তা তিনি কখনো ভাবেননি। তার মতে, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, শান্ত আলী প্রথমে এক নারীর ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইতালি প্রবাসী খোরশেদ আলীর সাথে তার পরিচয় হয়। পরে মেসেঞ্জারে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবহৃত নারীর তিনটি ছবিও খোরশেদকে পাঠানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী শান্ত আলী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লেখাপড়া না জানলেও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ। বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে তিনি মেয়েলি কণ্ঠে কথা বলতেন এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তা আদান-প্রদান করতেন।

এমনকি বিয়ের পর কথিত সুমাইয়ার বাবা পরিচয়ে শহিদুল ইসলামের সাথেও একাধিকবার কথা বলেছেন খোরশেদ। তাকে শ্বশুর মনে করলেও কথোপকথনের সময় কোনো সন্দেহ হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ছেলে প্রতারণা করছে জানার পরও শহিদুল ইসলাম তাকে সহযোগিতা করেছেন।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারের সময় শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। সেগুলোতে খোরশেদের সাথে যোগাযোগ ও বিভিন্ন বার্তা বিনিময়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।