...|...|...

সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীকে নিজ হাতে লেখা কোরআন উপহার দিল শিশু অরিনা

মেহেদী হাসান, খুলনা
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৫৩
Shares
প্রধানমন্ত্রীকে নিজ হাতে লেখা কোরআন উপহার দিল শিশু অরিনা

ছবি: টাইমস টুডে

মাত্র ৪০ দিনে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা ও ১১৪টি সূরা নিজের হাতে লিখে আলোচনায় এসেছিল খুলনার শিশু অরিনা সাফা খান। এবার নিজের হাতে লেখা সেই কুরআন শরীফ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উপহার দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে সে। শিশুটির এমন ব্যতিক্রমী উপহার পেয়ে বিস্ময় ও আনন্দ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পবিত্র কোরআন শরীফটি তুলে দেয় অরিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার কাছে জানতে চান, কোরআন শরীফটি সত্যিই সে নিজের হাতে লিখেছে কি না। অরিনা সম্মতিসূচক উত্তর দিলে খুশি হন প্রধানমন্ত্রী। তার সাথে কথা বলতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে শিশুটিও।

প্রধানমন্ত্রীকে কোরআন উপহার দেওয়ার অনুভূতি জানিয়ে অরিনা সাফা খান বলে, ‘যখন জানতে পারলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন, তখন ভাবছিলাম তাঁকে কী উপহার দেওয়া যায়। পরে মনে হলো, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কিতাব পবিত্র কোরআন শরীফ, যেটি আমি নিজ হাতে লিখেছি, সেটিই হবে সবচেয়ে দামি উপহার। তাই নিজের লেখা কোরআন শরীফটিই তাঁকে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথোপকথনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অরিনা বলে, ‘প্রথমে একটু ভয় ও নার্ভাস লাগছিল। কিন্তু তিনি যখন আমার সঙ্গে কথা বললেন, তখন বুঝলাম তিনি আমার ধারণার মতো নন। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মনে হচ্ছিল, পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে কথা বলছি। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, কোরআন শরীফটি আমি সত্যিই লিখেছি কি না। আমি যখন বললাম, নিজের হাতে লিখেছি, তখন তিনি খুশি হন। আমিও খুব খুশি হয়েছি।’

অরিনা জানায়, ৭২৯ পৃষ্ঠার পবিত্র কোরআন শরীফটি সম্পূর্ণ হাতে লিখতে তার সময় লেগেছে মাত্র ৪০ দিন। মাত্র ৯ বছর বয়সে কোরআনের ৩০ পারা ও ১১৪টি সূরা লিখে এর আগেও আলোচনায় এসেছিল সে।

খুলনার খালিশপুরের গোয়ালখালী এলাকার বাসিন্দা অরিনা বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. শুকুর আলী খান ও মা রাশিদা বেগম। পরিবারের সদস্যদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় ছোটবেলা থেকেই আরবি লেখার প্রতি আগ্রহ গড়ে ওঠে তার।

নিজের হাতে লেখা পবিত্র কোরআন দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে পারা অরিনার জীবনে এক বিশেষ প্রাপ্তি। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা বলার অভিজ্ঞতাও তার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।