...|...|...

লাইফস্টাইল

প্রথমবার মা-বাবা হওয়ার উপযুক্ত বয়স কখন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:০৫
Shares
প্রথমবার মা-বাবা হওয়ার উপযুক্ত বয়স কখন

বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যেক দম্পতির ব্যক্তিগত বিষয়। কর্মজীবন, আর্থিক স্থিতিশীলতা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত প্রস্তুতিসহ নানা বিষয় বিবেচনা করে অনেকে প্রথমবার মা-বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বয়সের সাথে নারী ও পুরুষের প্রজনন সক্ষমতায় পরিবর্তন আসে। তাই পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীর প্রজনন সক্ষমতার সাথে বয়সের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নারীর শরীরে ডিম্বস্ফোটনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় বয়স বাড়ার সাথে সাথে গর্ভধারণের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। অন্যদিকে পুরুষের শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে শুক্রাণু উৎপাদন চলমান থাকলেও বয়স বাড়ার সাথে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমানে পরিবর্তন আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে নারীর প্রজনন সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ৩০ বছর পার হওয়ার পর তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। বয়স বাড়ার সাথে গর্ভধারণে জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বর্তমানে অনেক নারী কর্মজীবন, উচ্চশিক্ষা, আর্থিক প্রস্তুতি কিংবা অন্যান্য পারিবারিক কারণে ৩০-৩১ বছর বয়সের দিকে প্রথম সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল বয়সের ওপর নির্ভর করে না, ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও পারিবারিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।

পুরুষের শরীরে শুক্রাণু উৎপাদন দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। এ কারণে নারীর মতো নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমায় পুরুষের প্রজনন সক্ষমতা শেষ হয়ে যায় না। তবে বয়স বাড়ার সাথে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গুণমানে পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সে পুরুষের শুক্রাণুর গুণমান তুলনামূলকভাবে ভালো থাকতে পারে। তবে ৫০ বছর বা তার পরেও অনেক পুরুষ সন্তান জন্মদানে সক্ষম থাকেন।

সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু জৈবিক বয়স নয়, দম্পতির মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর মায়ের শারীরিক পরিবর্তন, কর্মজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব এবং শিশুর পরিচর্যার বিষয়গুলো আগে থেকেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে স্বামীর সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান লালন-পালন শুধু মায়ের দায়িত্ব নয় পরিবারের উভয় সদস্যের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও থাকা প্রয়োজন।

সন্তান নেওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই বয়সকে ‘সঠিক’ বলা যায় না। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সকে প্রতিবেদনে তুলনামূলকভাবে উপযোগী সময় হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে বয়সের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, প্রজনন সক্ষমতা, মানসিক প্রস্তুতি ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

যারা দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বা গর্ভধারণ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও প্রজনন সক্ষমতা মূল্যায়নের পর চিকিৎসক পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ দিতে পারেন।