রাশিয়ায় শুক্রবার তিন দিনব্যাপী সংসদীয় নির্বাচন শুরু হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম স্টেট ডুমা নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ভোটকে ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
নির্বাচনে রাশিয়ার ৪৫০ সদস্যের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার আসন নির্ধারিত হবে। কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক পরিবেশে পুতিন-সমর্থক ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলটি ২০২১ সালের নির্বাচনে ডুমার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়েছিল।
পুতিন নির্বাচনের আগে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ভোটের মাধ্যমে লাখো মানুষ ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের পাশে থাকার বিষয়টি আবারও প্রমাণ করবে। তিনি রুশ জনগণকে অভিন্ন মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক স্মৃতি ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসায় ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে তুলে ধরেন।
রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি নির্বাচনী বিজ্ঞাপনেও সামরিক জাতীয়তাবাদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন যুগের রুশ সামরিক কমান্ডারদের দৃশ্যের পর ইউক্রেন যুদ্ধে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে জাতীয় পতাকা হাতে রুশ সেনাদের ছবি দেখানো হয়। বিজ্ঞাপনের স্লোগান ছিল—‘তাদের কণ্ঠস্বরই বিজয়ের কণ্ঠস্বর। আপনার ভোটই রাশিয়ার শক্তি।’
নির্বাচনের আগে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রেও প্রতীকীভাবে রুশ সামরিক ইতিহাসকে সামনে আনা হয়েছে। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মনোবল ও সমর্থন বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মধ্যযুগীয় এক রুশ রাজপুত্রের হাতের হাড়ের একটি অংশ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ওই রাজপুত্র অতীতে মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে একটি বিখ্যাত জয় পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচনে যুদ্ধবিরোধী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ইয়াবলোকো দলের অধিকাংশ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ফলে কার্যকর বিরোধিতার সুযোগ সীমিত হওয়া নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
মস্কোতে ভোট দেওয়ার সময় ৭৬ বছর বয়সী আনাতোলি সিমোনেনকো বলেন, নির্বাচনের পর কী ঘটতে পারে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। নতুন করে সেনা সমাবেশের ঘোষণা আসতে পারে—এমন জল্পনা অবশ্য কর্তৃপক্ষ বারবার অস্বীকার করেছে।
রয়টার্সকে সিমোনেনকো বলেন, যুদ্ধের সঙ্গে ব্যয়, প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি খরচ এবং বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা কমানোর মতো বিষয় জড়িত। তবে তার মতে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় এবং এ থেকে নিস্তার নেই।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার নির্বাচনের ফলাফল কারচুপির মাধ্যমে প্রভাবিত করা সম্ভব বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। দেশের কিছু অংশে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে নির্বাচন কমিশন এ ধরনের অভিযোগকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিন দিনের এই ভোট ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। নির্বাচনের ফলাফলকে পুতিনের সরকার ইউক্রেন যুদ্ধ ও তার নীতির প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


