মাত্র তিন ঘণ্টার প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মানুষ।
দীঘিনালা-মেরুং সড়কের হেডকোয়ার্টার এলাকায় সড়কের ওপর ২ থেকে ৩ ফুট পানি ওঠায় লংগদুর সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়েছে। অনেকে ছোট নৌকায় করে পানির অংশ পার হচ্ছেন।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে শনিবার দিনভর পরিস্থিতির অবনতি হয়। এ সময় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারী বর্ষণের সাথে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় মাইনী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। এতে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
দীঘিনালা-মেরুং সড়কের হেডকোয়ার্টার এলাকায় সড়কের ওপর পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে লংগদু থেকে আসা-যাওয়া করা যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে ছোট নৌকায় করে পানির অংশ পার হচ্ছেন।
ফেনী থেকে গাড়ি নিয়ে লংগদু যাওয়ার পথে আটকা পড়া জুয়েল মিয়া বলেন, লংগদু যাওয়ার জন্য বিকেল ৪টার দিকে এখানে এসে দেখি রাস্তায় কোমরসমান পানি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গাড়ি নিয়ে বসে আছি। কখন যেতে পারব, ঠিক নেই।
খাগড়াছড়ি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে লংগদুর বাড়িতে ফিরছিলেন রাশেদ। তিনি বলেন, ফুটবল খেলতে গিয়ে পা ভেঙে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফিরলেও সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় আর যেতে পারছেন না।
স্থানীয়রা বলছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে মাইনী নদীর পানি বাড়তে থাকলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে এবং নদীর পানি দ্রুত নেমে গেলে রোববারের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, প্রবল বর্ষণের কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।


