কঙ্গো ডিআরের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করার পর থেকেই পর্তুগাল শিবিরে বইছে সমালোচনার ঝড়। আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দলটির ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করা এবং গোলমুখে কোনো অন-টার্গেট শট না রাখতে পারায় হতাশ মুখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ওয়ান ম্যান আর্মি খ্যাত এই ফরোয়ার্ডকে।
বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচ গোলহীন থাকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিসংখ্যান যখন তার ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক ও জোড়া গোলের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স এই তুলনার আগুনে যেন ঘি ঢেলে দিয়েছে।
পর্তুগাল ও রোনালদোকে ঘিরে যখন ফুটবল বিশ্বে তুমুল বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা মাইকেল ওয়েন এগিয়ে এলেন তার পুরনো সতীর্থের সমর্থনে।
রোনালদোর সমালোচকদের সরাসরি জবাব দিয়ে মাইকেল ওয়েন বলেন,'পর্তুগাল দল হিসেবেই কঙ্গোর বিপক্ষে ভালো খেলতে পারেনি। কিন্তু এর সিংহভাগ দায় চাপানো হচ্ছে একা রোনালদোর ঘাড়ে। ৪১ বছর বয়সে পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটা খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু দলে গোল না হলেই শুধু রোনালদোকে দোষ দেওয়াটা মোটেও ঠিক নয়।'
ওয়েনের মতে, রোনালদোর সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। এমনকি পরবর্তী ম্যাচেই সিআরসেভেন চেনা রূপে ফিরবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
সাবেক এই ইংলিশ স্ট্রাইকার আরও যোগ করেন, আমি নিশ্চিত পরের ম্যাচেই ও (রোনালদো) পারফর্ম করে সবার মুখ বন্ধ করে দেবে। ক্যারিয়ারে এমন ঘটনা তো ও কতবার ঘটিয়েছে। রোনালদো মাঠে থাকা মানেই ও যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। যদি পরবর্তী ম্যাচে ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও করে ফেলে, তবে আমি বিন্দুমাত্র অবাক হব না।
গ্রুপ ‘কে’-তে আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পর্তুগাল। টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের তীব্র খোঁজে থাকা রবার্তো মার্তিনেসের দল আজ পূর্ণ শক্তি নিয়েই মাঠে নামবে। কোচের ছক অনুযায়ী, বের্নার্দো সিলভা ও পেদ্রো নেতোকে দুই প্রান্তে রেখে আজ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেই আক্রমণের মূল কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো অভিষিক্ত হওয়া উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগের সামনে আজ বড় পরীক্ষা। অন্যদিকে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি রোনালদোর সামনে এটি আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ-মাঠের পারফরম্যান্সে সব সমালোচনার শব্দকে চিরতরে নীরব করে দেওয়ার।

