বজ্রঝড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার বাধা ডিঙিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখল ফ্রান্স। ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল ও উসমান দেম্বেলের দারুণ এক স্ট্রাইকে ইরাককে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। প্রকৃতির বৈরিতায় দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ম্যাচ বন্ধ থাকার পর, দ্বিতীয়োয়ার্ধে মাঠে ফিরেই সম্পূর্ণ দাপট দেখিয়ে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল ফরাসিরা।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট কাটার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ফ্রান্স, অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইটা চরম কঠিন হয়ে গেল ইরাকের জন্য।
এর আগে ম্যাচের ১৪তম মিনিটে দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে ফ্রান্সকে প্রথম লিড এনে দিয়েছিলেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে প্রথমার্ধ শেষ হতেই স্টেডিয়াম এলাকায় তীব্র বজ্রপাত ও ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলা স্থগিত করতে বাধ্য হয় ফিফা। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে আবহাওয়া অনুকূলে এলে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা পুনরায় শুরু হয় এবং মাঠের ফিরেই আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে ইরাকের রক্ষণভাগের এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবাপ্পে। ইরাকি ডিফেন্ডার আহমেদ কাসেমের ব্যাকপাস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল। চটজলদি বল কেড়ে নিয়ে উসমান দেম্বেলে ডি-বক্সের ভেতর নিঃস্বার্থভাবে পাস বাড়ান এমবাপ্পেকে। ফাঁকায় থাকা ফরাসি অধিনায়ক অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়াতে ভুল করেননি।
এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১৬-তে। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বমঞ্চে জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন। বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখন এমবাপ্পের সামনে আছেন কেবল আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি, যার গোলসংখ্যা ১৮টি।
ইরাককে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়ে এর কিছুক্ষণ পরই ব্যবধান ৩-০ করেন উসমান দেম্বেলে। মাঝমাঠ থেকে মাইকেল ওলিসের বাড়ানো চমৎকার এক পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের দেখা পান এই ফরাসি উইঙ্গার। শেষ পর্যন্ত ইরাক ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।

