ডালাসে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলে হারলেও, ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ কোচ রালফ রাংনিক। ৩৯ বছর বয়সেও মেসির এমন অতিমানবীয় ফর্ম দেখে মুগ্ধ রাংনিক বলেন,কেউ যদি ৩৯ বছর বয়সেও ম্যাচে দুটি গোল এবং বিশ্বকাপের শুরুতে সব মিলিয়ে পাঁচটি গোল করতে পারে, তবে তা সত্যিই ম্যাচে অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে প্রথম গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে (৯৫ মিনিটে) নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন মেসি। তার নেওয়া প্রথম শটটি অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক প্রাথমিকভাবে ঠেকালেও, ফিরতি বলের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণে তা জালে জড়ান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তের এই গোলটির পেছনে নিজেদের রক্ষণভাগের দায় দেখছেন অস্ট্রিয়া কোচ, আমরা জানতাম যে সে নিজের আলাদা এক উচ্চতায় রয়েছে এবং লিওনেল মেসি প্রমাণ করেছে যে সে সেরাদের একজন, এমনকি সর্বকালের সেরাও। তবে আমার মনে হয় দ্বিতীয় গোলটিতে আমাদেরও অংশগ্রহণ ছিল, সেটা ছিল পুরোপুরি আমাদেরই ভুল।
তবে মেসির করা প্রথম গোলটি নিয়ে রেফারির সিদ্ধান্তে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড। ভিএআরের কারণে পাওয়া পেনাল্টি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে রাংনিক বলেন, প্রথম গোলের ক্ষেত্রে, আমি চতুর্থ রেফারিকে সেই কাজটাই করতে বলতাম যা তিনি পেনাল্টি কিকের আগে করেছিলেন। তার উচিত ছিল ঘটনাটি ভালোমতো খতিয়ে দেখা, তাহলেই তিনি সেটি দেখতে পেতেন যা সবাই দেখেছে-আমাদের জাভের শ্লাগারের ওপর ফাউল হয়েছিল। সিদ্ধান্তটি সত্যিই বিরক্তিকর ছিল।
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা থাকলেও ম্যাচ হেরেও নিজের শিষ্যদের লড়াকু ফুটবল নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন অস্ট্রিয়া কোচ। অস্ট্রিয়ার হাই-প্রেসিং ফুটবলের প্রশংসা করে তিনি যোগ করেন,বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই এমন কিছু মুহূর্ত থাকে যখন কোনো একটি দলের কাছে ম্যাচের মোমেন্টাম থাকে। (মেসি) পেনাল্টি মিস করার পর সেই মোমেন্টাম আমাদের পক্ষেই ছিল এবং তারপর থেকেই আমরা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসি।
তিনি আরও বলেন, আমি আমার খেলোয়াড়দের আরও সাহসী হতে বলতাম, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে শট নেওয়ার ক্ষেত্রে। আমরা যেভাবে ম্যাচে বল দখলে রেখেছিলাম, অনেকেই আশা করেনি যে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমরা এতটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারব। আমার মনে হয় দ্বিতীয়ার্ধে আমরা সত্যিই দারুণ পারফর্ম করেছি। তাই সামগ্রিকভাবে আমি আমার দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট।
অস্ট্রিয়া কোচের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, স্কোরলাইন ২-০ হলেও মাঠের লড়াইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে সহজে এক বিন্দুও ছাড় দেয়নি রালফ রাংনিকের অদম্য অস্ট্রিয়া।

