মধ্যপ্রাচ্যে হু হু করে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনা ও সীমান্ত নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বের বাইরে থাকা মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো চরম হুমকির মুখে পড়ার পর ওয়াশিংটন এই কড়া সিদ্ধান্ত নিল।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তার কথা নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৩ অক্টোবর থেকেই এই বাধ্যতামূলক নির্দেশ কার্যকর করা শুরু হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ঠিক কতজন মার্কিন কূটনীতিক, কর্মকর্তা কিংবা তাদের স্বজনকে সৌদি আরব ত্যাগ করতে বলা হয়েছে, সেই নির্দিষ্ট সংখ্যাটি প্রকাশ করেনি মার্কিন দূতাবাস।
বিমানবন্দর ব্যবহারে বিধিনিষেধ ও নতুন হামলার আশঙ্কা
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক রকেট ও ড্রোন আক্রমণের ঘটনার পর মার্কিন কর্মচারীদের জন্য সৌদির বিমানবন্দরগুলো ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে দেশটির কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হলে মার্কিন সরকারি কর্মীদের পূর্বাহ্নেই বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে।
মার্কিন দূতাবাস আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে হামলা চালানের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দেশটির আকাশসীমা আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল এবং অন্যান্য বড় ধরনের ভ্রমণ জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই নাজুক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বসবাসরত সব সাধারণ মার্কিন নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখার জরুরি পরমর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং দেশটির জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন জোগানো সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যকার লড়াই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। হুথিরা সরাসরি সৌদির সাধারণ বিমানবন্দর ও স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালানোয় পুরো অঞ্চলে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মধ্যেই ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর সঙ্গে সৌদি জোটের এই মুখোমুখি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন এক উত্তপ্ত রণক্ষেত্র তৈরি করেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।


