মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে নিয়োগের চেষ্টা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্যের বিনিময়ে বিপুল অর্থ লেনদেনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দুই চীনা নাগরিককে ৩০ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে মার্কিন বিচার বিভাগ এই সাজা ঘোষণার কথা নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’র এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তি হলেন ৪০ বছর বয়সী লিরেন রায়ান লাই এবং ৩৯ বছর বয়সী ইউয়ানসে চেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি উভয়কে মুক্তি পাওয়ার পর আরও তিন বছর পুলিশের কঠোর নজরদারিতে থাকতে হবে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি জন এ. আইজেনবার্গ জানিয়েছেন, আসামিরা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে সংকুচিত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম জোরদার করতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অত্যন্ত দুঃসাহসিক ও বিস্তৃত চক্রান্ত চালিয়ে আসছিলেন।
গোপন লেনদেন ও নজরদারি
আদালতের নথিসূত্রে জানা যায়, আসামিরা ২০২১ সালের মে মাস থেকে চীনের পররাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা ‘মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি’-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা লিরেন লাই মার্কিন স্থায়ী বাসিন্দা চেনকে এই চক্রান্তে যুক্ত করেন। প্রথমদিকে লাই নিজে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে চেন সরাসরি তাদের হ্যান্ডলার বা পরিচালকের কাছ থেকে নির্দেশ পেতে শুরু করেন।
২০২২ সালের মে মাসে তারা চীনে থাকা পরিচালকের নির্দেশে ‘ডেড ড্রপ’ (এক স্থানে টাকা রেখে অন্য স্থান থেকে তা অন্য কারও তুলে নেওয়ার গোপন পদ্ধতি) ব্যবস্থার মাধ্যমে ১০,০০০ ডলারের একটি গোপন নগদ লেনদেন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে একইভাবে আরও ২০,০০০ ডলারের অপর একটি লেনদেন পরিচালনা করেন তারা।
অর্থ লেনদেনের পাশাপাশি আসামিরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌঘাঁটি, সামরিক রিক্রুট এবং কর্মরত নৌসেনাদের ছবি তুলে চীনে পাঠান। চেন একজন মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মচারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন এবং সম্ভাব্য গোয়েন্দা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন এমন সামরিক কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতেন। তবে তারা কতটি লেনদেন সম্পন্ন করেছেন কিংবা ঠিক কতজন সেনাকে রিক্রুট করতে পেরেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি মার্কিন বিচার বিভাগ।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রেক্ষাপট
লাই ও চেন—উভয়কেই অ্যাটর্নি জেনারেলকে না জানিয়ে বিদেশি সরকারের হয়ে চক্রান্ত করা এবং এজেন্ট হিসেবে কাজ করার দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতে আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে তাদের গ্রেফতার ও অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত আগস্টের শেষের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি জানেন চীন যুক্তরাষ্ট্রে গুপ্তচরবৃত্তি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের দেশে সমানভাবে গুপ্তচরবৃত্তি চালায়।
এর আগে গত জুনে চীন এক মার্কিন নাগরিককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতারের ঘোষণা দেয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মিন জিন নামের যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এক গবেষককে জুন মাসের শুরুতে আটক করা হয়, যিনি মিয়ানমারের সামরিক সরকার ও বিরোধী দলগুলোর নানা নীতির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।


