...|...|...

বিশ্ব

নির্বাচনে হারলে ইরানে হামলা, যুদ্ধের ভাগ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে না বলে তেহরানের হুঁশিয়ারি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:১০
Shares
নির্বাচনে হারলে ইরানে হামলা, যুদ্ধের ভাগ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে না বলে তেহরানের হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে শাসকদল রিপাবলিকান পার্টি আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হলে অথবা বড় পরাজয়ের মুখ দেখলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ও সুদূরপ্রসারী সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের এমন কোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের থাকলেও, সেই যুদ্ধের ইতি টানা আর ওয়াশিংটনের হাতে থাকবে না। 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানি বার্তা সংস্থা ‘আইআরএনএ’-এর বরাতে এই খবর জানা গেছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, নির্বাচনে প্রত্যাশিত জয় না পেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মারাত্মক রাজনৈতিক চাপে পড়তে পারেন এবং নিজেকে শক্তিহীন মনে করলে দৃষ্টি ঘোরাতে আরও কঠোর বা দুঃসাহসী সামরিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক অংশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, তিনি (ট্রাম্প) যদি নিজেকে অপমানিত মনে করেন, তবে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেবেন। তেহরানকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাত এড়িয়ে দর কষাকষিতে পৌঁছানোর এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

তবে এই গুঞ্জন উ উড়িয়ে দিয়ে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরান সম্পর্কিত সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলের কোনো প্রভাব পড়বে না।

দোহার মধ্যস্থতায় পর্দার অন্তরালে শান্তি আলোচনা

একদিকে নতুন অভিযানের মেঘ ঘনীভূত হলেও অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় বার্তা আদান-প্রদান ও প্রত্যক্ষ আলোচনা শুরুর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কাতার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার তেহরানে টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। এ সময় প্রতিনিধি দলটি সার্বক্ষণিক হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছিল। সূত্রের খবর, এই মধ্যস্থতায় কিছু ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে এবং আজ শনিবারও কাতারের রাজধানী দোহায় এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

তবে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শর্তের কারণে এগোচ্ছে না চূড়ান্ত চুক্তি। মার্কিন প্রশাসন চায় আলোচনার টেবিলে ফেরার আগেই ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দৃশ্যমান ছাড় দিতে হবে। অন্যদিকে তেহরানের শর্ত স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে পারস্য উপসাগরে তাদের ওপর চাপানো নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা জব্দ করা ইরানি অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং স্বাধীনভাবে বিশ্ববাজারে তেল বিক্রির সুযোগ দিতে হবে।

এর পাশাপাশি, যেসব ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় ইতোপূর্বে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল, সেগুলোতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে ইরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন কাতারি প্রতিনিধিরা। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে চরম মতভেদ

ইরানের সাথে কূটনীতি নাকি সরাসরি সামরিক সংঘাত—এ ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও শীর্ষ ক্যাবিনেট সদস্যদের মধ্যে স্পষ্ট দুটি স্পষ্ট পক্ষ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের সাথে কোনো নতুন চুক্তিতে যাওয়ার ঘোর বিরোধী। তারা তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে আরও সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা ও দুর্বল করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অপরদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার কূটনৈতিক উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে কথা বলছেন।

ইরান সেনাবাহিনীর রণপ্রস্তুতি ও কড়া হুঁশিয়ারি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। শনিবার নিজের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো নতুন মার্কিন সামরিক দুঃসাহসিকতা কেবল নতুন অঞ্চল নয়, পুরো যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধিকেই ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করবে।

জেনারেল আকরামিনিয়া বলেন, সিয়োনবাদী (ইসরায়েল) গোষ্ঠীর উসকানি ও প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি অঞ্চলে আবারও কোনো ভুল বা দুঃসাহস করার চেষ্টা করেন, তবে যুদ্ধের অগ্নিশিখা নিঃসন্দেহে আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। আর সেই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা আর ওয়াশিংটনের হাতে থাকবে না।

আমেরিকার ট্র্যাক রেকর্ড তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টরা বরাবরই কূটনীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে এসেছেন। তাই প্রতিপক্ষের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডে কান না দিয়ে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজেদের যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।