আর্মেনিয়ার সংসদে ‘যৌন মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার বিতর্কিত একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের সাংসদদের মধ্যে চরম হাতাহাতি, কিল-ঘুষি এবং চেয়ার ছোড়াছুড়ির মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। বিরোধী দলের এক নেতা নারীসমাজকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর এই মারামারির সূত্রপাত হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার আর্মেনিয়ার সংসদে তুমুল এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে বিরোধী দল ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টি’ দেশের কোনো নারী যেন ‘অসন্তুষ্ট না থাকেন’, তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি সরকারি মন্ত্রণালয় গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দলটির দাবি ছিল, নারীদের যৌন অসন্তুষ্টির কারণেই মূলত মধ্যবয়স্ক নারীদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে গত বৃহস্পতিবার আইনসভায় এই প্রস্তাব নিয়েই চরম হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়। ক্ষমতাসীন ‘সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টি’র সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতিতে ডুবে থাকার’ অভিযোগ তোলেন এবং প্রস্তাবিত এই মন্ত্রণালয়ের জন্য নারীসমাজের কাছে বিরোধী দলকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
চাখোয়ান বিরোধী দল ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’র নেতা নারেক কারাপেটয়ানকে ‘মাথা থেকে পা পর্যন্ত একটি জগাখিচুড়ি’ বলে আখ্যা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র চিৎকার চেঁচামেচি। মুহূর্তেই অন্য সাংসদরা দৌড়ে সেই পোডিয়ামের দিকে ছুটে যান, যেখানে চাখোয়ান বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এরপরই শুরু হয় হাতাহাতি, কিল-ঘুষি ও লাথি মারা।
সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং সিভিল কন্ট্রাক্ট দলের সদস্য ভাহাগন আলেক্সানিয়ান বিরোধীদের লক্ষ্য করে একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন। অন্যদিকে তারন চাখোয়ানকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য গারনিক দাভটিয়ানের গায়ে পানি ছুড়তে দেখা যায়। বিশৃঙ্খলার সময় অনেক সাংসদ বোতল ছুড়ে মারেন এবং সংসদ কক্ষের টেবিল ভেঙে ফেলেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার শুরুতে অধিবেশন স্থগিত করবেন না বলে জানালেও সহিংসতা মারাত্মক আকার ধারণ করলে বাধ্য হয়ে বিরতি ঘোষণা করেন। তবে বিরতির পরও থামেনি উত্তেজনা; সংসদের করিডোরেও হাতাহাতি চলতে থাকে। নিরাপত্তারক্ষীরা মানববলয় তৈরি করে দুই পক্ষকে আলাদা করার চেষ্টা করেন। অনেক সাংসদকে আহত ও ছেঁড়া জামাকাপড় পরে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস জানিয়েছে, এই মারামারির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনি বা ফৌজদারি কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও বিরোধীদের বক্তব্য
সংঘাতের পর এক সংবাদ সম্মেলনে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেন, আমি যেকোনো সহিংসতার নিন্দা জানাই, তবে আজকের ঘটনায় সিভিল কন্ট্রাক্ট দল যে পদক্ষেপ নিয়েছে আমি তার পক্ষে। কারণ, [স্ট্রং আর্মেনিয়া] বিরোধী দলে আছে মানে এই নয় যে তাদের উদ্ধত আচরণ করতে হবে। তিনি আরও রসিকতা করে ফেসবুকে লেখেন, দলটির নাম ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ হলেও তাদের সাংসদের সদস্যরা শারীরিকভাবে অতটা শক্তিশালী নন।
চাখোয়ান ফেসবুকে মন্তব্য করেন যে তিনি কিছুটা বিরক্ত কারণ বিরোধীরা মারামারি শুরু করে পরে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন কক্ষ থেকে মার খেয়ে পালিয়ে গেছে। একই সাথে প্রতিপক্ষের এই ‘বদমাইশি’ আচরণের জন্য তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চান।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা নারেক কারাপেটয়ান এই মারামারিকে সমর্থন করে একে স্বাভাবিক আর্মেনীয় ধাঁচের মুখোমুখি লড়াই বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যে লোকগুলো আমাদের স্নায়ু পরীক্ষা নিচ্ছিল, তারা ঠিকঠাকমতো মুখে আঘাত পেয়েছে—আর ভালোভাবেই পেয়েছে।


