হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে নিরীহ ব্যক্তিকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে চুনারুঘাট থানার এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহল আমিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ তাদেরকে ক্লোজড করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়ার পরিবারের সাথে প্রতিবেশী একটি পরিবারের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
এ নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিক মামলা ও পাল্টা মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে ছায়েদ মিয়া, তার মেয়ে জাসমিন ও ছোট ভাই ইউনুস ইজিবাইকে চুনারুঘাট যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাদের ইজিবাইকের গতিরোধ করে।
এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিও পুলিশের সাথে ছিলেন। পরে তাদের তল্লাশি করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত দেখানোর চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তাদের পুলিশের গাড়িতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কালিশিরীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হন। তারা এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এঘটনার পর পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দেয়।
নিরীহ মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে আজ শুক্রবার সকালে এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহল আমিনকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা করেন পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন পুলিশ সুপার। সেই হিসেবে তাদেরকে আজ ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।



