...|...|...

সারাদেশ

নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:০০
Shares
নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার। ছবি: টাইমস টুডে

খুলনার দাকোপে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি কার্যালয় ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইয়াসমিন শেখ (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি বাজুয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেফতার ইয়াসমিন শেখ দাকোপ উপজেলার চুনকুড়ি এলাকার সেকেন্দার আলী শেখের মেয়ে এবং নূরে আলম চৌধুরীর স্ত্রী। পুলিশ জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৬ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি দাকোপ থানার এফআইআর নং-৫, তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০২৪; জিআর নং-১২৬। এতে দ্য এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর ৩/৫/৬ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৪৩৬/৩৮০/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২২ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দাকোপের পানখালী মমতাজ বেগম স্কুলসংলগ্ন এলাকায় বিএনপি দলীয় কার্যালয় ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ৮০ থেকে ৯০ জনের একটি দল লোহার রড, লাঠি, দা, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, হাতুড়ি, রামদা ও ককটেলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র, টেলিভিশন, কম্পিউটার, সাইনবোর্ড, পোস্টার ও কাগজপত্র নষ্ট করে। একটি আলমারিতে থাকা ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জমির দলিল কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া হামলার সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশের আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াসমিন শেখের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ খায়রুল বাশার বলেন, ২০১৮ সালের একটি মামলায় তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াসমিন শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইয়াসমিন শেখের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।