নাটোরের লালপুরে প্রতারণার শিকার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের সেই আট শিক্ষার্থী অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় বসেছেন তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী।
তবে নিজ জেলার বাইরে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। নতুন পরিবেশে থাকায় মেয়ের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, বুধবার (১৯ আগস্ট) শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতারণার শিকার আট শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কলেজকে জানানো হয়। এরপর দ্রুত পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ড নিয়েছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন বলেন, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আটজনসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা একাধিক বিষয়ের মোট ৪৬ জন শিক্ষার্থী বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
বিভিন্ন কারণে বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাসহ কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তাদের জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বোর্ডের কাছাকাছি স্থানে পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়।
পরে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, তাদের ফরম পূরণই করা হয়নি। ফলে প্রবেশপত্র না থাকায় গত ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে পারেননি তারা।
বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থায় ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওনের ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তারা।
তবে প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অবশেষে শিক্ষা বোর্ডের বিশেষ ব্যবস্থায় আজ সেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন তারা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণার ঘটনায় তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহমুদুর রহমান। তবে এ ঘটনায় এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।


