নাইজেরিয়ায় একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৬০ জনের বেশি মুসল্লিকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা। একই সঙ্গে তারা আশপাশের কয়েকটি গ্রামেও হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে দেশটির নাইজার রাজ্যের বোরগু স্থানীয় সরকার এলাকার ডেকারা জেলার ক্পেনিয়া মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, হামলাকারীরা প্রথমে কাছাকাছি কয়েকটি গ্রামে হামলা চালায়। পরে তারা ক্পেনিয়া মসজিদে প্রবেশ করে মুসল্লিদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, “প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও উদ্ধার অভিযানের জন্য যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মসজিদ থেকে ৬০ থেকে ৮০ জনের মতো মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এখনো অপহৃতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।
বোরগু স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহি মোহাম্মদ নাসির জানান, পালানোর চেষ্টা করার সময় কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
তিনি বলেন, “নামাজ পড়ার সময় লোকজনকে অপহরণ করা হয়। তখনই দুষ্কৃতকারীরা এসে মসজিদ ঘিরে ফেলে এবং তাদের নিয়ে যায়।”
স্থানীয় এক সম্প্রদায় প্রতিনিধি জানান, অপহৃতদের মধ্যে ডেকারার যুবনেতা জুবাইরু উমর তালবার ৮৫ বছর বয়সী বাবাও রয়েছেন।
এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষও বন্দুকধারীদের পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা সংকট চলছে। স্থানীয়ভাবে ‘দস্যু’ নামে পরিচিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এসব এলাকায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, গ্রাম, স্কুল ও সড়কে হামলা চালিয়ে আসছে।
এসব গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়েও সংঘর্ষ চলে, যার কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বারবার হামলা ও অপহরণের শিকার হচ্ছে।
এর আগে নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছিল, কাইঞ্জি লেক ন্যাশনাল পার্ক থেকে ৩০০ জনের বেশি জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কোয়ারা রাজ্যের ওরো এলাকা থেকে কয়েক মাস আগে অপহৃত ১৬৩ জনও ছিলেন।
দেশটিতে অপহরণ ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সূত্র: প্রেস টিভি


