...|...|...

সারাদেশ

অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, চার দিন পর তমার মৃত্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:০৬
Shares
অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, চার দিন পর তমার মৃত্যু

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় তমা খাতুন (২০) নামে এক তরুণীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত তমা ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে গোলাপনগর বাজারের একটি পার্লার থেকে সাজগোজ করে বাড়ি ফেরার পথে তমাকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে একটি সংঘবদ্ধ দল তার ওপর ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালায়। গভীর রাতে বখশীপাড়ার একটি নির্জন মোড়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় তারা।

পরে স্থানীয়রা ও স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ঘটনার পরদিন তমার মা কাজলী খাতুন ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে গোলাপনগর এলাকার আবু বক্করের সাথে তমার বিয়ে হয়েছিল। তবে দেড় মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তমাকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক স্বামী আবু বক্করের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

নিহত তমার মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর গোলাপনগর বাজার থেকে তমাকে অপহরণ করা হয়। পরে একটি সংঘবদ্ধ দল তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়। চার দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের সাবেক স্বামী আবু বক্করকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।