...|...|...

খেলা

নবম ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে যে ৫ কারণে এগিয়ে মেসি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৩১
Shares
নবম ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে যে ৫ কারণে এগিয়ে মেসি

লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

ব্যালন ডি’অর পুরস্কারটির সাথে লিওনেল মেসির নাম যেন আলাদা করে লেখা যায় না। আটবার এই সম্মান জিতে রেকর্ড গড়া আর্জেন্টাইন মহাতারকা ২০২৩ সালে ইউরোপ ছাড়ার পরও ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের আলোচনার বাইরে চলে যাননি। ২০২৬ সালের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর আবারও ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। নবমবারের মতো ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার মেসির হাতে উঠতে পারে এমন আলোচনার পেছনে রয়েছে অন্তত পাঁচটি বড় কারণ।

চলতি বছরের ব্যালন ডি’অরের জন্য মেসির দাবির পক্ষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স। ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে নেমে ৮ গোলের পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ফাইনাল ছাড়া প্রতিটি ম্যাচেই গোল বা অ্যাসিস্টে অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে আর্জেন্টিনা হেরে গেলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সিলভার বল নিয়েই বিশ্বকাপ শেষ করেন মেসি।

বিশ্বকাপে মেসির পুনরুত্থান

ব্যালন ডি’অরের বিবেচনায় বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে পারফরম্যান্সের গুরুত্ব অনেক। সেই জায়গায় মেসির পরিসংখ্যানই তার দাবিকে জোরালো করছে। এমএলএসে যাওয়ার পর তার সামর্থ্য নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিশ্বকাপে তাদের সামনে আবারও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি দলের আক্রমণে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিততে না পারায় গোল্ডেন বল পাননি মেসি, তবে পুরো টুর্নামেন্টে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে ব্যক্তিগত পুরস্কারের আলোচনায় রেখেছে।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বিশ্বকাপে এগিয়ে

মেসির দাবি শুধু তার নিজের পারফরম্যান্সের ওপর দাঁড়িয়ে নেই, বরং এবারের বিশ্বকাপে ব্যালন ডি’অরের অন্য আলোচিত প্রার্থীদের তুলনায় তার পরিসংখ্যানও নজরকাড়া। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ৬ গোল করলেও কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে গোল পাননি। স্পেনের লামিনে ইয়ামালের গোলসংখ্যা ছিল মাত্র একটি।

মেসির সাথে তুলনায় কিলিয়ান এমবাপেকে অবশ্য আলাদা করে আলোচনা করা হচ্ছে। তবে তার দুটি গোল এসেছিল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। ফলে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে মেসির ধারাবাহিক প্রভাব তার দাবিকে আরও আলোচনায় এনেছে।

৩৯ বছরেও থামেনি মেসির জাদু

মেসির বয়স এখন ৩৯। এই বয়সে বেশির ভাগ ফুটবলারই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যান। অথচ মেসি এই বয়সেও বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

তার বয়স নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, মাঠের পারফরম্যান্স ততবারই সেই আলোচনাকে ছাপিয়ে গেছে। তরুণ ও গতিশীল খেলোয়াড়দের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেসির এমন পারফরম্যান্সই তার ব্যালন ডি’অরের দাবিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

এমএলএসে মেসির ব্যাপক প্রভাব

ব্যালন ডি’অর শুধু মাঠের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করে না। একজন খেলোয়াড় তার দল, লিগ ও সামগ্রিক ফুটবল সংস্কৃতিতে কতটা প্রভাব ফেলেছেন, সেটিও আলোচনায় থাকে। এমএলএসে মেসির আগমন সেই জায়গায় বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়াতে তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। মেসিকে ঘিরে এমএলএসের দর্শক, প্রচার ও বাণিজ্যিক আগ্রহও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট একটি লিগে একজন খেলোয়াড়ের প্রভাবের প্রশ্নে মেসির নামটি স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।

সতীর্থ ও কোচদের সমর্থন

মেসির ব্যালন ডি’অর দাবির পক্ষে তার সতীর্থ ও ফুটবল বিশ্বের পরিচিত ব্যক্তিরাও কথা বলেছেন। আর্জেন্টিনার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো বলেছেন, ‘ব্যালন ডি’অর লিও মেসিরই পাওয়া উচিত। তিনি অবসর না নেওয়া পর্যন্ত বিষয়টা একদম পরিষ্কার।’

জাতীয় দলের আরেক সতীর্থ অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারও মেসির বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি (মেসি) অবিশ্বাস্য এক বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন। তাই তার হাতেই যে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ দেখি না।’

ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক ডেভিড বেকহামের মতে, ‘আপনি যখন তাকে মাঠে এমন অলৌকিক কিছু করতে দেখেন, বিশ্বকাপে তার সেই অভাবনীয় রূপ দেখেন তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে ৩৯ বছর বয়সে এসে কেউ এমন চোখধাঁধানো ফুটবল খেলতে পারে না। ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকার সব যোগ্যতাই তার আছে। আমার মতে, এটি তারই জেতা উচিত।’

আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনেও মেসির পক্ষে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। লা লিগায় এমবাপে ও ইয়ামালের পারফরম্যান্স কাছ থেকে দেখার পরও তার পছন্দ মেসি। তিনি বলেন, ‘কোনো সন্দেহ ছাড়াই মেসি। এই বয়সে এসে তিনি যে বিশ্বকাপ উপহার দিলেন, তার পর তো আর কোনো দ্বিধাই থাকে না। উত্তরটা শুধুই মেসি।’