মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি ঘোষণার পরপরই তুমুল করতালি দিয়ে সংসদ সদস্যরা তাকে অভিনন্দন জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে হাত মেলান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোলাকুলি করেন। এরপরে অন্যান্য এমপিরাও তাকে অভিনন্দন জানান।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এ সময় বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়।
এর আগে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় সংসদের ৩৪৮ জন সদস্য ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। ভোট শেষে সংসদকক্ষেই ব্যালট গণনা করে ফল ঘোষণা করেন নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এবারের ভোট ছিল উন্মুক্ত- প্রতিটি ব্যালটে ভোটদাতা সংসদ সদস্যের পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর যুক্ত থাকায় কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা স্পষ্টভাবেই জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির ২৪৭ জন এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ৯০ জন সংসদ সদস্য ভোট প্রদান করেন। ঘোষিত ফলাফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, আর তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট- অর্থাৎ মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন। মোট ৩৪৮ জন ভোটারের মধ্যে বাকি ৫ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন বা ভোট দিতে পারেননি। সংসদ সদস্যদের এই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
ফলাফল ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করবে বলে আগেই জানিয়েছিল ইসি, এবং আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন। ২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পুরো সময়টায় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আগে তিনি দলের মহাসচিব পদ ও সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দিন তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য ঘোষিত হবে, যেখানে পরবর্তী সময়ে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


