কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনালে কার্গো জাহাজ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তর ও গ্যাসে রূপান্তরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা পেট্রোবাংলা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর ব্যাহত হয়। এতে জাতীয় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দেয়।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় এলএনজি স্থানান্তরের কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। ফলে গ্যাস সরবরাহও দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার পথে রয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে এতদিন জাতীয় পাইপলাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।
বুধবার সরবরাহ ছিল প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ কমে যায় প্রায় ৪০ কোটি ঘনফুট।
দেশে ব্যবহৃত মোট গ্যাসের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে। মহেশখালী সমুদ্রে স্থাপিত মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশীয় সামিট গ্রুপের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়।
দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মজুদ এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নতুন এলএনজিবাহী কার্গো জাহাজ পৌঁছালেও উত্তাল সমুদ্রের কারণে তা টার্মিনালে খালাস করা সম্ভব হয়নি।
এতে দুটি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুটের পরিবর্তে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। তবে শুক্রবার সকাল থেকে কার্গো জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস শুরু হওয়ায় সরবরাহ পুনরায় বাড়ানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সারাদেশে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় সচল হলেও এলএনজিবাহী জাহাজ পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার পর সরবরাহও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলএনজি স্থানান্তর স্বাভাবিক হওয়ায় জাতীয় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহও দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।




