...|...|...

জাতীয়

নতুন পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ জুন ২০২৬, ভোর রাত ৫:৩৩ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫১
Shares
নতুন পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামোর আশায় প্রহর গুনছেন দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আগামী ১ জুলাই থেকে কাঙ্ক্ষিত নবম পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে—এমন গুঞ্জন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে শোনা গেলেও, এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘনিয়ে আসলেও নীতিনির্ধারকদের এই রহস্যজনক নীরবতা চাকরিজীবীদের মনে নতুন করে তীব্র অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত বেতন কাঠামো সময়মতো আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে মাঠপর্যায়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রশ্ন ও জল্পনা।

সরকারি কর্মচারীদের মূল ক্ষোভের জায়গাটি হলো, নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার প্রায় সবটুকুই সংবাদমাধ্যমের সূত্র ধরে জানা গেছে। সরকারের কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা পে-কমিশনের কোনো দায়িত্বশীল সদস্য এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া এই ধোঁয়াশা বর্তমান সময়েও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিষয়ে ব্রিফিং বা বিবৃতি দেওয়া হলেও আসন্ন পে-স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। অর্থ মন্ত্রণালয় বা অর্থ-সচিবের এই নীরবতার কারণে কর্মচারীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—আস আসলেই কি এবার পে-স্কেল হচ্ছে?

বিভিন্ন দায়িত্বশীল সরকারি সূত্রের আভাস অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের তিনটি অর্থবছর সময় লেগে যেতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন। এরপরের অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ বেসিক কার্যকর করা হবে এবং সর্বশেষ ২০২৮-২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতাধীন বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের এমন ধীরগতির বাস্তবায়ন পরিকল্পনার খবরে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। গত ৩১ মে এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের নেতারা দাবি জানান, প্রথম ধাপেই যেন শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করা হয়। তারা মনে করিয়ে দেন যে, গত ১১ বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। ফলে অনেক নিম্নপদস্থ কর্মচারী বাধ্য হয়ে পার্ট-টাইম বা খণ্ডকালীন কাজ করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অতীতে পে-স্কেল কার্যকরের আগে যেভাবে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এবং প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক দেওয়া হতো, এবারও সেই পদ্ধতি অনুসরণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

কর্মচারীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাই তাদের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে পারে আগামী সপ্তাহেই। আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন। এরপর ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বিশাল বাজেট পেশ করবেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই দাবি পূরণে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হবে কি না, নাকি তাদের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হবে—তা সেদিনের বাজেট বক্তব্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।