ইরানজুড়ে ৩ হাজার ৮০০টির বেশি স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপসমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেকিয়ান। এসব মোতায়েনকৃত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ দেশের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান। খাতাম আল-আনবিয়া বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে সাক্ষাৎকারটি দেন মোহাম্মদ সাদেকিয়ান।
তিনি জানান, দেশজুড়ে মোতায়েন করা এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রধানত চারটি মিশন পরিচালনা করে—শনাক্তকরণ, নজরদারি, প্রতিহতকরণ ও আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আকাশসীমার পাশাপাশি দেশের বাইরেও যেকোনো উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত করা বিমান প্রতিরক্ষার প্রধান দায়িত্ব।
জেনারেল সাদেকিয়ান আরও বলেন, ‘কোনো বস্তুকে শনাক্ত করার পর সেটিকে চিহ্নিত করা হয়। প্রয়োজন হলে যুদ্ধবিমান দিয়ে প্রতিহত করা হয় কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে মোকাবিলা করা হয়।’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্যই হলো শত্রুপক্ষকে অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত রাখা ও প্রয়োজনে ধ্বংস করা।
প্রতিরক্ষা মিশন শুধু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের আকাশসীমায় যাত্রীবাহী বিমান, ত্রাণ কার্যক্রমের হেলিকপ্টারসহ সব উড়োজাহাজের চলাচল প্রতিরক্ষা বাহিনীর সমন্বয় ও অনুমতির আওতায় চলে।
ইরানের মরূভূমি, উপকূল, দ্বীপ ও উচ্চভূমিসহ ভৌগোলিক বৈচিত্র্যময় সব স্থানেই নজরদারি বিস্তৃত। বিশেষ ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা ও আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ রাডার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের ভেতরের ও বাইরের আকাশসীমা ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান এই সামরিক কর্মকর্তা।

