প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আগামী শনিবারেও পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে মুম্বাই থেকে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। পরবর্তীতে এই আন্দোলন ভারতের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সিজিপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে লেখেন, যদি জ্ঞানেশ কুমার আগামীকালের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে সিজিপি আগামী ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু করবে এবং তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেবে। এই গান্ধী জয়ন্তীতে আসুন আমরা গণতন্ত্র রক্ষার শপথ নিই। খবর ইন্ডিয়া টেলিগ্রাফের।
পোস্টে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে অভিজিৎ ডিপকে বলেন যে, তাদের আর কোনোভাবেই কারচুপিযুক্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত নয়। তিনি লেখেন, হ্যাঁ, নির্বাচনগুলোতে কারচুপি করা হচ্ছে। কিন্তু যখন আপনারা (বিরোধী দলগুলো) এই কারচুপির নির্বাচনে অংশ নিতে থাকেন, তখন আপনারা এই নির্বাচনগুলোকে বৈধতা দেন এবং নির্বাচনগুলো অবাধ ও নিরপেক্ষ—এমন এক মায়া বজায় রাখতে সাহায্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সম্ভবত আপনারা (বিরোধী দলগুলো) এই ভয়ে নির্বাচন চালিয়ে যাচ্ছেন যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলে আপনাদের অস্তিত্ব মুছে যাবে। কিন্তু যখন ভোট চুরি হয়ে যাচ্ছে, আপনাদের বিধায়ক ও সাংসদদের দলবদল করানো হচ্ছে এবং দলগুলো ভেঙে টুকরো টুকরো করা হচ্ছে, তখন আপনারা ঠিক কোন অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করছেন?
‘এটি কোনো রাজনৈতিক টিকে থাকা নয়। আপনারা এমন এক ব্যবস্থার মধ্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন যা যেকোনো সময় আপনাদের দুর্বল করে দিতে পারে, দল ভেঙে দিতে পারে বা আপনাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ছিনিয়ে নিতে পারে। আপনারা এভাবে আর কতকাল টিকে থাকবেন?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনগুলোতে যদি কারচুপি হয়ে থাকে, তবে তা কোন রাজ্য বা কোন দল ক্ষতিগ্রস্ত হলো—তা দিয়ে কিছু আসে যায় না। তিনি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, খেলাটি যে কারচুপিতে ভরা, তা বারবার বলার পরও আপনারা সেই খেলায় অংশ নিয়ে যেতে পারেন না। আপনাদের এই অংশগ্রহণই কেবল কারচুপির নির্বাচনগুলোকে বৈধতা দিচ্ছে।
একটি পাতানো ক্রিকেট ম্যাচের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পাতানো ম্যাচে সব ক্যাচই ফেলে দেওয়া হয় না এবং ম্যাচটিকে অনেক সময় শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয় যাতে লড়াইটি বেশ জমে উঠেছে বলে মনে হয়। ঠিক একইভাবে তিনি বলেন, আপনাদের হাতে এমন কিছু জয় তুলে দেওয়া হবে যা কেবল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকিয়ে রাখতে এবং মানুষের মনে একটি সত্যিকারের প্রতিযোগিতার বিশ্বাস তৈরি করতে যথেষ্ট। ওই সামান্য কয়টি জয়ই হলো সেই টুকরো অংশ, যা আপনাদের খেলায় টিকিয়ে রাখে এবং পুরো বিষয়টিকে বৈধ বলে প্রমাণ করতে সাহায্য করে।
এদিকে, সিজিপির অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকেও আন্দোলন শুরুর স্থান ও তারিখের ঘোষণাটি পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়েছে, আসুন আমাদের প্রজাতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার মাধ্যমে গান্ধী জয়ন্তী উদযাপন করি।
এছাড়া দলের সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা টুইট করেছেন, আমাদের প্রজাতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ২ অক্টোবরের চেয়ে ভালো আর কোনো দিন হতে পারে না।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি সত্ত্বেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এসআইআর-এর অত্যন্ত বিতর্কিত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে গ্রহণ করেছেন। এই খবর প্রকাশের পর সিজিপির পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।
গত বছরের জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি মানুষের নাম বাদ পড়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ‘জন্তর মন্তর ২.০’সহ দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুমকি দিয়েছিল দলটি।


