...|...|...

সারাদেশ

অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব, ১৬ বছর পর খুলল কলেজের তালা

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:৫৪ | আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৩০
Shares
অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব, ১৬ বছর পর খুলল কলেজের তালা

দীর্ঘ ১৬ বছরের দ্বন্দ্বের পর খুলল কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ। ছবি: টাইমস টুডে

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাইয়ের দীর্ঘ ১৬ বছরের দ্বন্দ্বের পর তালা ভেঙে কলেজে প্রবেশ করেছেন অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান টুলু।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় কলেজের অফিস কক্ষের দুটি তালা ও একটি শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে তিনি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন।

জানা যায়, কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পরের বছর ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সমর্থিত জাতীয় সংসদের হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজটির উদ্বোধন করেন। পরে ২০১০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর কলেজের অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই সহোদর বড় ভাই কামরুজ্জামান ও ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলুর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। উভয়েই অধ্যক্ষের দায়িত্ব দাবি করে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের এ বিরোধ ও মামলা জটিলতার কারণে কলেজটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

আসাদুজ্জামান টুলুর দাবি, তিনি কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বড় ভাই কামরুজ্জামান তখন গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন না থাকায় কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি মাস্টার্স পাসের সনদ দেখিয়ে অধ্যক্ষের পদ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান। ওই সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় তার ভাইকে জেল ও জরিমানা ভোগ করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান আরও জানান, দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর তিনি আদালতের রায় পেয়েছেন। এরপর এলাকাবাসী তাকে খবর দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে বলেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কলেজে প্রবেশ করেন তিনি।

কলেজটির ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য শরীফ মো. মাসুদ পারভেজ জানান, তার দাদা মরহুম আব্দুল হাকিম শরীফ কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছিলেন। বর্তমানে সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলমান থাকলেও কলেজ প্রতিষ্ঠার পর রাজনৈতিক বিরোধ এবং দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার কলেজটি চালুর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ছোট ভাই আদালতের রায় পেয়েছেন এমন দাবি পাওয়ার পর কলেজটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কলেজটির ইংরেজি শিক্ষক সুশোভন তালুকদার জানান, তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলু অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তার ভাষ্য, বড় ভাই কামরুজ্জামানের মামলার বিপরীতে দুইবার আসাদুজ্জামানের পক্ষে আদালতের রায় হয়েছিল। তিনি প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর দাবি জানান।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান জানান, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকলেও এখান থেকে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। চলতি বছরও ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্থানীয়রা কলেজটিতে তালা দিয়ে রেখেছিলেন। আদালতের রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত জানান, কলেজটির অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা চলমান ছিল। একটি পক্ষ আদালতের রায় পাওয়ার পর তা বাস্তবায়নের জন্য তার কাছে আবেদন করেছে। তিনি উভয়পক্ষকেই নোটিশ দিয়েছেন। রায়ে পরাজিত পক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে সময় নিচ্ছে। আগামী ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। রায়ে পরাজিত পক্ষ উপস্থিত না হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।