...|...|...

আইন ও আদালত

রংপুরে চার খুন

দুই আসামির ফোনালাপ বিশ্লেষণে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:২৮ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:২১
Shares
দুই আসামির ফোনালাপ বিশ্লেষণে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামির মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে নতুন কিছু তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক সংখ্যক ফোনালাপের তথ্য তদন্তে গুরুত্বের  সাথে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৯ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ ঘণ্টার কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে মোট ৮০ বার ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়।

বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় সিদ্ধার্থ দাস তার দুটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মুগ্ধ দাসের একটি নম্বরে প্রায় ৩০ বার ফোন করেন। তবে এসব ফোনকলের প্রতিটির স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১১ থেকে ১৭ সেকেন্ড।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, অল্প সময়ের ব্যবধানে এতবার যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কয়েকটি ফোনকলে একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। ফলে সন্দেহভাজনের তালিকা আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস পরস্পরের আত্মীয় বলেও জানা গেছে। তারা মামাতো ও ফুফাতো ভাই। সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস এবং কাকা বিজয় দাসের বাড়ি নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশেই ছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাস আগে ওই বাড়ি বিক্রির বিষয়ে প্রতিবেশী এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সাথে চুক্তি করেছিলেন তারা। ৩৫ লাখ টাকায় বাড়িটি বিক্রির বায়না করা হয় বলে জানা গেছে। জমির ক্রেতা বিধান চন্দ্র দাস দাবি করেছেন, বায়না বাবদ তিনি ইতোমধ্যে ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন।

পরিবারটি বাড়ির দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর ভারতের শিলিগুড়িতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই আসামিকে দুই দফায় জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল ১১টা ১০ মিনিট থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলী।

এর আগের দিন মঙ্গলবারও দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই দিন তিন ঘণ্টা করে মোট ছয় ঘণ্টা জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পায় পুলিশ।

গত সোমবার রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম এ অনুমতি দেন। পুলিশ তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর তদন্তে আরও কিছু নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এসব তথ্য যাচাই এবং তাদের আগের বক্তব্যের সাথে বিভিন্ন আলামতের মিল খুঁজতেই পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ, ঘটনার আগে ও পরে আসামিদের গতিবিধি এবং তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য একসাথে বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর একই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, চার হত্যাকাণ্ডের পেছনের পুরো ঘটনা উদঘাটনে সব তথ্য ও আলামত গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হচ্ছে।