সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে জয়হীন বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ড্র করলেও ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের কাছে হেরে হতাশ করেছে দল। টেস্টে লড়াইয়ের ছাপ থাকলেও ওয়ানডেতে ব্যাটিং ব্যর্থতা, ভুল দল নির্বাচন ও জুটি গড়তে না পারার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে।
আবুধাবিতে টেস্ট ড্রয়ের পর ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে হার এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে পরাজয় বাংলাদেশের দুর্বলতা সামনে এনেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ১৬০ রানে অলআউট হয়ে ৪১ রানের ব্যবধানে জয়ের সমীকরণও মেলাতে পারেনি দল।
শুরুতেই নেতৃত্বে ধাক্কা:
ওয়ানডে সিরিজের আগে চোটের কারণে ছিটকে যান অধিনায়ক লিটন দাস। তার অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব পান তাওহিদ হৃদয়। এতে নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকেও হারায় বাংলাদেশ।
দল গঠনে অসংগতি:
ব্যাটিং লাইনআপে ওপেনারের আধিক্য থাকলেও কার্যকর মিডল অর্ডারের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আট নম্বরে ব্যাট করতে নামেন পেসার শরীফুল ইসলাম। এতে ব্যাটিংয়ের গভীরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জুটি গড়তে ব্যর্থতা:
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৭ রানে প্রথম তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেনের ৯৩ রানের জুটির পর আবার দ্রুত উইকেট পড়ে। শেষ পর্যন্ত দল থামে ১৬০ রানে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি ছিল মাত্র একটি।
৫০ ওভার খেলতে না পারা:
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭২ রান তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ইনিংস শেষ হয় ৫০ ওভার পূর্ণ হওয়ার আগেই। দ্রুত উইকেট হারানোর পর পরিস্থিতি সামাল দিয়ে লম্বা সময় ব্যাটিং করতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা।
প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা:
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা চার ওয়ানডেতে হার বাংলাদেশের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সর্বশেষ সাত ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে জয় মাত্র একটিতে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও সর্বশেষ সাত ম্যাচে জয় এসেছে মাত্র দুটিতে। সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের।


