ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলাটির তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে তানজিন তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। গত ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়।
আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে এ প্রতিবেদন নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৫ হাজার টাকা দামের শাড়ি নেওয়ার ঘটনায় প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি হুমকির অভিযোগের পক্ষেও পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা সানায়া চৌধুরীর কাছ থেকে একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সানায়া।
পরে শাড়ি ফেরত চেয়ে যোগাযোগ করলে তানজিন তিশা তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।
তদন্তে পিবিআই দুই পক্ষের ফেসবুক মেসেঞ্জারের কথোপকথন পর্যালোচনা করে। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তানজিন তিশার সাথে সানায়ার আগে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং এর আগেও তিনি তার কাছ থেকে শাড়ি নিয়েছেন ও ফেরত দিয়েছেন।
তানজিন তিশা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় শাড়ির বিষয়টি তার মনে ছিল না। তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চলে যাওয়ার পর তিনি বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। পরে মামলার বিষয়টি জানতে পেরে ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান।
পিবিআই জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ শাড়িটি ফেরত দেওয়ায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মেসেজ পর্যালোচনা করে হুমকির অভিযোগেরও সত্যতা মেলেনি।
তবে বাদীপক্ষ পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় জানিয়েছেন, তারা আদালতে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করবেন এবং পুনঃতদন্তের আবেদন জানাবেন।
এর আগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে শাড়ি সংক্রান্ত আরেকটি মামলা হয়। অনলাইন ফ্যাশন পেইজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে শাড়ি নেওয়া ও মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগে করা ওই মামলায় আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই মামলায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন তানজিন তিশা।



