...|...|...

বিশ্ব

ডেমোক্র্যাটরা কি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ থামাতে পারবে?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৭
Shares
ডেমোক্র্যাটরা কি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ থামাতে পারবে?

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগামী ৩ জানুয়ারির আগে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিতে পারছে না দলটি। তবে এর আগের দুই মাস যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রনীতি গবেষক ত্রিতা পারসির মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন।

পারসি বলেন, ‘অপমান ও পরাজয়ের মুখে তিনি (ট্রাম্প) আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, এমন একটি প্রবণতা তিনি দেখিয়েছেন।’

তার মতে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে ডেমোক্র্যাটদের কঠোর অবস্থান নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের অর্থায়ন সীমিত করার উদ্যোগও নিতে পারে দলটি।

ট্রাম্প প্রশাসন আগে থেকেই বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকলে যুদ্ধের জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব আটকে দেওয়ার সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা।

পারসির ভাষায়, এতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সময়সীমা সীমিত হয়ে আসবে। নতুন করে অর্থের প্রয়োজন হলে অন্য খাত থেকে সহজে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও কম থাকবে।

তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে না। যেকোনো বাজেট বিল পাস করাতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভেটো মোকাবিলার মতো পর্যাপ্ত ভোট প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি সামরিক ব্যয় কমানোর বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা কতটা ঐক্যবদ্ধ ও আগ্রহী, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

ব্লেসিংয়ের মতে, মার্কিন সেনাদের দুর্বল করার অভিযোগ ওঠার আশঙ্কায় ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহাসিকভাবেই সামরিক খাতে অর্থায়ন বন্ধ করতে অনীহা দেখিয়ে এসেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে চাপ তৈরির জন্য দলটির সামনে আরও কিছু পথ খোলা রয়েছে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগিয়ে সামরিক অভিযান পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসন আইনের শাসন মেনে চলছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত ও কঠোর নজরদারি চালানো।

স্বাধীন নজরদারি সংস্থা প্রজেক্ট অন গভর্নমেন্ট ওভারসাইটের নীতিবিষয়ক বিশ্লেষক ডেভিড জানোভস্কির মতে, এ ধরনের নজরদারি সরাসরি সামরিক অভিযান বন্ধ করতে না পারলেও যুদ্ধের রাজনৈতিক ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে প্রেসিডেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে যুদ্ধ সীমিত করার প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা শেষ পর্যন্ত কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকবে, তা এখনো অনিশ্চিত। পারসি সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটরা কোনো উদ্যোগ না নিলে তাদেরও রাজনৈতিক দায় নিতে হবে।

তার ভাষায়, ‘তখন এটি আর শুধু ট্রাম্পের যুদ্ধ থাকবে না। ডেমোক্র্যাটরাও এর অংশীদার হয়ে যাবে। কারণ, যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা কিছু না করে এর সঙ্গে জড়িত থাকবে।’