নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জমি ও ফসল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ছেলেকে বাঁচানোর আকুতি জানাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে তহমিনা আক্তার মিনা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে আটক করেছে ডিমলা থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত মিনা বেগম ওই এলাকার মো. জামিনুর রহমানের স্ত্রী।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, উত্তর সোনাখুলি গুচ্ছগ্রাম এলাকার আমেতুল্লাহ মুন্সির ছেলে সামছুল হক (৬৫), মো. আয়নাল হকের ছেলে সবুজ (২৮), আয়নাল হকের স্ত্রী মোছা. ছবিরন (৫০) এবং তার মেয়ে রাহেনা বেগম (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মিনা বেগমের বড় ছেলে মিলনের (২৬) সাথে আয়নাল হকের মেয়ে মোছা. হামিদা বেগমের (২২) বিয়ে হয়। কাবিন ও যৌতুকের অংশ হিসেবে আয়নাল হক একটি বন্ধকি জমি জামাতা মিলনকে চাষাবাদের কিছুদিন আগে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই জমির দখল, চাষাবাদ এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একটি সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, বিরোধপূর্ণ জমির চলতি মৌসুমের ধান কাটা শেষ হলে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে।
তবে পূর্বনির্ধারিত এই সমঝোতার তোয়াক্কা না করে মঙ্গলবার বিকেলে ওই জমি থেকে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য ধানগাছের অবশিষ্টাংশ কাটতে যান মিলনের ছোট ভাই মস্তো মিয়া (১৪)। এ সময় আয়নাল হক ও তার ছেলে সবুজসহ কয়েকজন তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন। ছোট ভাইয়ের আর্তচিৎকার শুনে মা মিনা বেগম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাদের নির্বৃত্ত করার চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ সময় ক্ষিপ্ত হামলাকারীরা মায়ের ওপরও চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর চালায়। একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মিনা বেগম এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এক নারীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরও হামলাকারী ও তাদের সহযোগীরা ঘটনাস্থলে নির্বিঘ্নে ধান কাটতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে চারজনকে আটক করে।
খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে যৌতুকের জমি ও ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক অন্যদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


