যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর ওষুধ ‘ওজেম্পিক’-এর নকল সংস্করণ পাচার ও বিক্রির অভিযোগে অন্তত দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডার মধ্য অঞ্চলের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি কর্তৃক দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে যে অভিযুক্ত স্বপনদীপ রায় এবং ভিকি রামাঞ্চা ও তাদের সহযোগীরা চীন থেকে নকল ওজেম্পিক সংগ্রহ করে তা মার্কিন পরিবেশকদের কাছে কম মূল্যে বিক্রি করতেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে স্বপনদীপ রায়কে ইতালি থেকে প্রত্যর্পণ করার পর টাম্পার একটি আদালতে তার প্রাথমিক হাজিরার সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে অন্য অভিযুক্ত ভিকি রামাঞ্চা এখনো পলাতক রয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে এই দুই জনের সম্মিলিতভাবে সর্বমোট ৭১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে রায় ও রামাঞ্চা চীন থেকে অননুমোদিত উৎসগুলোর মাধ্যমে নকল ওজেম্পিক সংগ্রহ করেছিলেন। এই নকল ওষুধগুলোতে আসল ওজেম্পিকের মতো প্যাকেজিং, লিফলেট, পেনের লেবেল এবং সুই বা সুচ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ক্রেতাদের বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয়েছিল যে তারা শতভাগ আসল ওষুধটিই কিনছেন। উল্লেখ্য যে, এই জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধটি কিনতে রোগীদের প্রতি মাসে শত শত ডলার খরচ করতে হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে কিছু নকল ওজেম্পিক জব্দ করা এবং এ বিষয়ে একটি জনসচেতনতামূলক সতর্কতা জারি করার পরেও এই প্রতারণামূলক চক্রের অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
রায় ও রামাঞ্চার বিরুদ্ধে চোরাচালান, নকল ওষুধ বিক্রি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতারণা ও চোরাচালানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, নকল প্রেসক্রিপশন ওষুধ—বিশেষ করে বহুল ব্যবহৃত ওষুধগুলো—আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল সাপ্লাই চেইনের অখণ্ডতার ওপর নির্ভরশীল প্রতিটি আমেরিকান নাগরিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত দুজন মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে নিজেদের পকেট ভারী করেছে। আমেরিকান ভোক্তাদের সাথে নকল ওষুধ নিয়ে প্রতারণাকারীদের আমরা যেকোনো মূল্যে ধাওয়া করা অব্যাহত রাখব।
ফ্লোরিডার মধ্য অঞ্চলের সহকারী মার্কিন আইনজীবী ক্রিস্টোফার মুরে বলেন, এই অভিযোগপত্রটি নকল প্রেসক্রিপশন ওষুধের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে আমেরিকানদের রক্ষায় আমাদের অবিচল প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন ঘটায়। মুরে যোগ করেন, আমাদের অফিস আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে কলুষিতকারী কোনো অপরাধীকে ছাড় দেবে না।
ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের (এফডিএ ওসিআই) সহকারী কমিশনার জাস্টিন গ্রিন বলেন, যদিও মার্কিন পাইকারি বিতরণ বাজার অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, তবুও যারা বৈধ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সুরক্ষাবেষ্টনীকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন বাজারে নকল ওষুধ প্রবেশ করান, তারা মার্কিন ভোক্তাদের চরম ঝুঁকিতে ফেলেন।
গ্রিন আরও বলেন, ওষুধের নিরাপত্তা এবং মান নিশ্চিত করার বিষয়টি কেবল মার্কিন সীমান্তের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। এফডিএ সম্ভাব্য নকল ওষুধের যেকোনো রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকে এবং দেশের ওষুধের সরবরাহ রক্ষায় অন্যান্য ফেডারেল এজেন্সি, বিদেশি সমকক্ষ এবং বেসরকারি খাতের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর স্বপনদীপ রায়কে গ্রেফতার করা হয় এবং বিচার বিভাগের অফিস অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স তার আটকাদেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইতালি থেকে তাকে প্রত্যর্পণের জন্য দ্রুত যথাযথ আবেদন দাখিল করেছিল।


