বিমানে বসে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়ে ব্যবসা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে চ্যাট করার সময় তার বারবার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার একটি ঘটনা অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে এবং তা নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের হায়দরাবাদের বাসিন্দা ভিবিআর প্রসাদ নামের ওই বৃদ্ধ একটি ফ্লাইটে বসে এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে ভার্টিক্যাল ফার্মিং ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরি করছিলেন। সে সময় তার পাশের আসনে বসা এক সহযাত্রী তার এই কথোপকথন লক্ষ্য করেন।
৭৭ বছর বয়সেও নতুন কোনো ব্যবসায়িক আইডিয়া নিয়ে তার এই কাজের স্পৃহা ছাড়াও ওই সহযাত্রীর নজর কেড়েছিল চ্যাটবটের সাথে কথা বলার তার অনন্য ভঙ্গিটি। প্রসাদ তার বার্তায় বারবার চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করছিলেন। একটি কথোপকথনে তিনি লিখেছিলেন, ওহ চমৎকার দিকনির্দেশনা, স্যার। অনেক ধন্যবাদ, এবং আমি আপনার কাছে আবার ফিরে আসব, স্যার। আমাকে ফাইলগুলো ডাউনলোড করতে দিন, স্যার।
‘টেকনোসর’ নামের এক্স হ্যান্ডল ব্যবহারকারী ওই সহযাত্রী প্রসাদের একটি ছবি এবং তাদের কথোপকথনের বিস্তারিত শেয়ার করেন। মুহূর্তেই পোস্টটি লাখ লাখ ভিউ কুড়ায় এবং অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ওই পোস্টে প্রসাদকে তার কাজের প্রতি ভীষণ মনোযোগী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এআই ব্যবহার করে নিজের ব্যবসায়িক আইডিয়া গড়ে তোলার জন্য তার প্রশংসা করা হয়েছে। ফ্লাইটের মধ্যে দুই যাত্রীর মধ্যেও কথা হয় এবং তারা বন্ধুও হয়ে ওঠেন।
প্রসাদ মূলত ভার্টিক্যাল ফার্মিং প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিলেন। এটি এমন এক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সাধারণত নিয়ন্ত্রিত ইনডোর পরিবেশে বা ঘরের ভেতরে স্তরে স্তরে ফসল চাষ করা হয়। তার এই ব্যবসায়িক আইডিয়াকে আরও পরিপক্ব করতেই তিনি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিচ্ছিলেন।
এদিকে, পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নতুন প্রযুক্তিকে সানন্দে গ্রহণ করা এবং একটি এআই চ্যাটবটের প্রতি তার এই পুরোনো আমলের ভব্যতা ও শিষ্টাচারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। কেউ কেউ রসিকতা করে এও বলেছেন যে, ভবিষ্যতে এআই যদি কখনও পৃথিবী দখল করে নেয়, তবে এই ভদ্র আচরণ হয়তো তার উপকারে আসতে পারে।
শুধু তাই নয়, সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রসাদ নিজেও এতে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি তার প্রতি মানুষের পাঠানো সুন্দর বার্তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন যে, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যেতে পারে।


