মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া কচ্ছপিয়া উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে কোস্টগার্ড।
এদিকে নৌকাডুবির ঘটনায় এক শিশু ও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া আরও এক নারী নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে টেকনাফের বাহারছড়া করাচিপাড়া সমুদ্র সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া ১৬ জনের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, রাতে একটি রোহিঙ্গাবোঝাই ট্রলার উপকূলে এসে ডুবে যায়। এ ঘটনায় মৃত দুইজনের মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, রাতে আমরা দুইটা লাশ উদ্ধার করি। যা বাহারছড়া কচ্ছপিয়া করাচি পাড়া সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার করি। লাশ দেখে মনে হচ্ছে তারা খুব উপকূলের কাছে এসে ডুবে গেছে ট্রলার।
উদ্ধার হওয়া উখিয়ার বাসিন্দা মো. কোরবান আলী বলেন, আমি ও আরেকজন বৌদ্ধ ধর্মের ছেলে এক বছর মিয়ানমার কারাভোগ শেষে দেশে আসার জন্য কোনো উপায় না পেয়ে নৌকা নিয়ে রোহিঙ্গাদের সাথে চলে আসছিলাম। বাহারছড়া কাছাকাছি এসে আমাদের নৌকা ডুবে যায়। আমরা ১৯ জন ছিলাম। সেখানে এক শিশু ও এক মহিলা মারা গেছে। আরেকজন নিখোঁজ রয়েছে। বাকি ১৬ জনদের উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাহারছড়া এলাকায় একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবির ঘটনায় ১৬ জনকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড থানায় হস্তান্তর করেছে। এ ট্রলার ডুবিতে দুইটা লাশ আমরা উদ্ধার করছি। লাশটা ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার ১৬ জনকে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

