বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে টানা পাঁচ দিন ধরে সেন্টমার্টিন টেকনাফ নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দ্বীপবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ, যাতায়াত ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌপথে সব ধরনের যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়া সতর্ক সংকেত বহাল থাকায় নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন টেকনাফ উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ। দ্বীপের খাদ্যসামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্য টেকনাফ থেকে ট্রলারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। ফলে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টিকিট বিক্রেতা ফারুক আহমেদ বলেন, সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার হলে নৌ চলাচল স্বাভাবিক হবে। বর্তমানে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন উভয় প্রান্তেই অনেক যাত্রী আটকা পড়ে আছেন।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, এই নৌপথে মোট ২৬টি ট্রলার চলাচল করে। রোটেশন পদ্ধতিতে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি ট্রলার যাত্রী পরিবহন করে থাকে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, টানা পাঁচ দিন ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নানা সমস্যায় পড়েছেন। প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সেন্টমার্টিনে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে। খাদ্য সংকট দেখা দিলে কোস্টগার্ড ও বিজিবির নৌযানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিনের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে টেকনাফে আনা হয়েছে। তবে দুইজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী দ্বীপে অবস্থান করছেন। তাদের পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


