বীরাঙ্গনা স্বীকৃতির আগেই মারা গেলেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের ভাদাইর দেউল গ্রামের জয়গুন নাহার খানম (৬৮)। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগী এই বীরাঙ্গনা দীর্ঘদিন বার্ধক্য ও নানা রোগে ভুগে নিজ বাড়িতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি শমশেরনগর-সংলগ্ন চাতলাপুর চা বাগান এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে বীভৎস নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর পরিবার ও সমাজের নানা কটু কথার শিকার হওয়া ওই বীরাঙ্গনা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি।
শমশেরনগর ইউনিয়নের সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, গত শুক্রবার বিকাল ৫টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মরহুমাকে দাফন করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেতে জয়গুন নাহার সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আসে। এরপর বিষয়টি আর এগোয়নি।
তার দুটি কিডনিই বিকল ছিল। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। জয়গুন নাহারের স্বামী মৃত সুবেদার লালখাঁন।
বীরাঙ্গনাদের নিয়ে গবেষণা করা মৌলভীবাজার টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর দীপঙ্কর মোহন্ত বলেন, জয়গুন নাহার খানমের জীবনী সবার আড়ালেই ছিল। নানা বঞ্চনা নিয়ে তিনি লড়াই করে গেছেন। একবার আমি বহুকষ্টে তার কাছে গিয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পিটিআইতে আমাদের একটি অনুষ্ঠানে তাকে পরিচয় করিয়ে দিই। আশা করেছিলাম, রাষ্ট্র তাকে স্বীকৃতি দিয়ে পরবর্তী জীবনে মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার দেবে। কিন্তু সেটি তার জীবদ্দশায় আর হলো না।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল কুমার দাস বলেন, জয়গুন নাহার খানম আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি ইতিহাস। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এই বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি না পাওয়াটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার।


