মাদারীপুর সদর উপজেলায় ভাগ্নির বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ার জেরে বাবুল ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালী গ্রামে এ তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ দুধখালী গ্রামের বাবুল বেপারীর ভাগ্নি এবং একই এলাকার হোসেন মোল্লার মেয়ে সাহিদা আক্তারের সাথে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের কলাবাড়ি গ্রামের এক ইতালি প্রবাসীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। পূর্বশত্রুতার জেরে ওই বিয়েতে স্থানীয় কালিকাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি শাহাদাত মাতুব্বরকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। আর এই ক্ষোভ থেকেই মূলত এই হামলার সূত্রপাত হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়ার ক্ষোভে শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শাহাদাত মাতুব্বর ২০-২৫ জনের একটি দল নিয়ে বাবুল বেপারীর বাড়িতে চড়াও হন। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেন। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঘরে রাখা নগদ ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী বাবুল বেপারী বলেন, ‘শাহাদাত মাতুব্বরের সাথে আমাদের পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। যে কারণে আমার ভাগ্নির বিয়েতে তাকে আমরা দাওয়াত দিইনি। এই সামান্য ক্ষোভকে কেন্দ্র করে সে তার দলবল নিয়ে আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং ঘরে থাকা নগদ টাকা ও গহনা লুট করে নিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার দাবি করছি।’
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত কালিকাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত মাতুব্বর বলেন, ‘এই ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারা তাদের বাড়িঘরে হামলা বা লুটপাট চালিয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘ঘটনার খবর শোনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, এ বিষয়ে আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’


