দুই পায়ে চলার শক্তি নেই, লাঠিতে ভর দিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে ভিক্ষা করে চলে জীবন। কেউ পাঁচ টাকা দেন, কেউ দশ টাকা। কখনো জোটে দুমুঠো খাবার, কখনো কাটে অনাহারে। এভাবেই একটু একটু করে জমিয়েছিলেন কিছু চাল আর সামান্য টাকা। কিন্তু সেই শেষ সম্বলটুকুও রক্ষা পেল না চোরের হাত থেকে। ঘরে একা ঘুমিয়ে থাকা অসহায় প্রতিবন্ধী আব্দুল জলিলের কুঁড়েঘরে সিঁধ কেটে চাল ও জমানো টাকা চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে ঘুম থেকে উঠে সব হারানোর শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
তবে অসহায় জলিলের এমন দুর্দশার খবর পেয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে তিনি জলিলের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি চালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
জলিলের জীবনসংগ্রাম যেন প্রতিদিনের এক কঠিন বাস্তবতা। দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর ধরে পঙ্গুত্ব বরণ করে লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন তিনি। শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এই মানুষটির এক বোন ছাড়া আপনজন বলতে তেমন কেউ নেই। বোন এসে রান্না করে খাইয়ে যান। আর বাকি সময়টুকু নিজের মতো করেই বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যান তিনি।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালাই সরদারের চর বেপারীকান্দির বেপারীবাড়ি এলাকায় একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে বসবাস করেন আব্দুল জলিল। মানুষের কাছে হাত পেতে যা পান, তা দিয়েই চলে তার জীবন। ভিক্ষা করে পাওয়া চাল আর সামান্য টাকা ছিল তার অনিশ্চিত জীবনের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে রাতে জলিল যখন ঘরে একা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন দুর্বৃত্তরা তার ঘরের সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে পেছনের অংশ দিয়ে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ঘরে থাকা চাল ও জমানো সামান্য টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা চোরদের বাধা দেওয়ার মতো সামর্থ্যও ছিল না তার।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের এমন অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন জলিল। যে চাল দিয়ে কয়েক দিন খাবারের ব্যবস্থা হতো, যে সামান্য টাকা ছিল তার শেষ ভরসা, সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। তার কান্না দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় অনেকেই।
এলাকাবাসীর মতে, একজন অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের ঘর থেকে তার বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু চুরি করে নেওয়া অত্যন্ত অমানবিক। যিনি নিজেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারেন না, তার সামান্য সম্পদটুকুও নিরাপদ নয় এ ঘটনা সমাজের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে জলিলের দুর্দশার কথা শুনে তার পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তিনি জলিলকে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একইসাথে জলিলের বসবাসের কুঁড়েঘরটি পাকা করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে যখন চোখের জলে দিন কাটছিল জলিলের, তখন এই সহায়তা তার মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে। এখন অসহায় এই মানুষটির প্রত্যাশা, মাথা গোঁজার নিরাপদ একটি ঘর আর দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা।


