বাংলাদেশি ফিনটেক স্টার্টআপ ‘ওয়াইজারগেটস টেকনোলজিস লিমিটেড’ জাপান ও যুক্তরাজ্যের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। সম্প্রতি দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারের (ডিআইএফসি) অধীনে নিবন্ধন পাওয়ার পর তিন কোটি ডলার মূল্যায়নে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই তহবিলে প্রধান বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে টোকিওভিত্তিক নিউভিশন জাপান কোম্পানি লিমিটেড এবং লন্ডনভিত্তিক ওয়ান সিএস হোল্ডিংস লিমিটেড। তবে প্রতিষ্ঠান দুটি কী পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করবে, তা জানানো হয়নি।
দুবাইয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার খবর জানিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওয়াইজারগেটস বলেছে, বাংলাদেশে উদ্ভাবিত প্রতিষ্ঠানটি এখন আন্তর্জাতিক বাজারে যাত্রা শুরু করছে।
পাঁচ বছর আগে উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রেফায়েত চৌধুরী ও নাজিবুর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে ওয়াইজারগেটসের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্ল্যাটফর্মের নাম ‘ন্যানো অ্যাসেটস’। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ একত্র করে কৃষি, লন্ড্রি, রেস্তোরাঁ, মুদি ব্যবসা, জিম ও পণ্য বাণিজ্যসহ বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত পাঁচ বছরে তাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের সম্পদে ২০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।
ওয়াইজারগেটসের ব্যবসায়িক মডেলটি মূলত ‘প্রাইভেট ইকুইটি টোকেনাইজেশন’। এ ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীরা কোনো ব্যবসার ক্ষুদ্র অংশ কিনে প্রতিষ্ঠানটির লভ্যাংশ ও মুনাফার অংশীদার হতে পারেন। অন্যদিকে উদ্যোক্তারাও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পান।
২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলারের মাধ্যমে দেশীয় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে কোম্পানি গঠনের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পাঠানোর সুযোগ দেয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুবাইয়ে বিনিয়োগ করে ওয়াইজারগেটস। পরে ডিআইএফসির কাছে ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পায় প্রতিষ্ঠানটি।
শুরুতে বাংলাদেশে নিজেদের সব কার্যালয় চালু রেখে অনলাইনে দুবাইয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। বর্তমানে দুবাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কার্যালয় রয়েছে এবং সেখানে চার সদস্যের একটি দল কাজ করছে।
ওয়াইজারগেটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেফায়েত চৌধুরী বলেন, স্বল্প বিনিয়োগের মাধ্যমে সবার জন্য সম্পদ ও উৎপাদনশীল সম্পত্তির মালিকানা এবং আর্থিক সাক্ষরতা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, দুবাইয়ের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজারেও প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। রেফায়েত চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। উদ্যোক্তা হওয়ার আগে তিনি দেশে পাঁচ বছরের বেশি সময় একটি বহুজাতিক ব্যাংকে কাজ করেন।
অন্য সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা নাজিবুর রহমানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে একটি বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানে তিন বছরের বেশি সময় কাজ করেছেন।

