জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের চতুর্থ অনানুষ্ঠানিক ভোট বা ‘স্ট্র পোল’-এ তিনি সর্বোচ্চ ১০টি সমর্থন পেয়েছেন। তার বিপক্ষে গেছে তিনটি ‘নিরুৎসাহ’ ভোট, আর দুই সদস্য কোনো মতামত দেয়নি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের মহাসচিব গ্রিনস্প্যান চার দফা অনানুষ্ঠানিক ভোটের তিনটিতেই সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন। তবে এখনো তার নির্বাচিত হওয়ার পথ নিশ্চিত নয়। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের যেকোনো একটির আপত্তি শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতাকে আটকে দিতে পারে।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তার উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে এখন সাতজন প্রার্থী রয়েছেন—চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ।
গ্রিনস্প্যানের পর গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বার্কেট পেয়েছেন আটটি সমর্থন, ছয়টি নিরুৎসাহ ভোট এবং একটি ‘কোনো মতামত নেই’ ভোট। আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি পেয়েছেন আটটি সমর্থন ও সাতটি নিরুৎসাহ ভোট।
দৌড়ে থাকা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভন এ-বাকি ও মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার ওলারা ওতুনু।
জাতিসংঘের মহাসচিব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য গোপন ব্যালটে প্রতিটি প্রার্থীর বিষয়ে ‘সমর্থন’, ‘নিরুৎসাহ’ অথবা ‘কোনো মতামত নেই’—এই তিনটির একটি বেছে নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীকে সুপারিশ করতে হলে অন্তত নয়টি ভোটের পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সমর্থনও প্রয়োজন।
তবে মঙ্গলবারের চতুর্থ দফার ভোটে স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদের ব্যালট আলাদা করতে রঙ-চিহ্নিত ব্যালট ব্যবহার করা হয়নি। ফলে গ্রিনস্প্যানের বিরুদ্ধে পড়া তিনটি নেতিবাচক ভোটের কোনোটি ভেটো ক্ষমতাধর দেশের কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
নিরাপত্তা পরিষদ শেষ পর্যন্ত একজন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিলে তার নাম চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।
জাতিসংঘের শীর্ষ পদে অঞ্চলভিত্তিক আবর্তনের একটি দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে। সেই বিবেচনায় এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মহাসচিব নির্বাচনের প্রত্যাশা রয়েছে। গ্রিনস্প্যানও ওই অঞ্চলের প্রার্থী।
জাতিসংঘের ৮০ বছরের বেশি ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব হননি। ফলে গ্রিনস্প্যানসহ নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।


