...|...|...

জাতীয়

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আসছে নতুন অধ্যাদেশ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১:২০
Shares
ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আসছে নতুন অধ্যাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিনিয়োগ, বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, চুক্তি ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে খসড়া অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ভর্তুকির চাপ হ্রাস, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে।

আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে প্রণোদনাও ঘোষণা করা হয়েছে। এর আওতায় সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার (ওপেক্স) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার (ক্যাপেক্স) মডেলেও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে বিদ্যুতের অংশ প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানের ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের চুক্তির মেয়াদ ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, ক্যাপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান আইনে সুনির্দিষ্ট বিধানের অভাব রয়েছে। ফলে এসব কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ, চুক্তি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য অধ্যাদেশটির খসড়া প্রণয়ন করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।

খসড়া প্রণয়নের অন্যতম কারণ হিসেবে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-তে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে এসব আইনি ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।