নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ইরফান নিয়াজ আত্মগোপনে থেকে ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। একইসাথে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অজ্ঞাত স্থান থেকে লাইভে আসেন ইরফান। ৭ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ওই লাইভে তিনি শাকিল হত্যাকাণ্ডে নিজের ও পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেল গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের ছবির সাথে ইরফান নিয়াজের আগের একটি ছবি যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি পোস্ট দিতে থাকেন। এসব পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক লাইভে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
লাইভে ইরফান বলেন, ঘটনার দিন তিনি ও হাবিব এলাকায় ছিলেন না। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি নিজের বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন ইরফান। তার অভিযোগ, ঘটনার দিন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের লোক হিসেবে পরিচিত শাহিন কাউসারসহ কয়েকজন নয়াবাজার এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি জোরপূর্বক নিয়ে ডিবি পুলিশের হাতে তুলে দেন।
শাকিলের সাথে নিজের কোনো বিরোধ ছিল না দাবি করে ইরফান বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে তাকে হত্যাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া শাকিলের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলোতে অসংগতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক লাইভে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইরফান বলেন, আবেগ, প্রভাব কিংবা কোনো পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। কেউ অপরাধী হলে তার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবিও জানান তিনি।
তবে নিহত শাকিলের বাবা মো. রবিউল ইসলাম এর আগে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, মৃত্যুর আগে শাকিল ধারাবারিষা এলাকার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা হাবিব মন্ডল ও ইরফান নিয়াজের নাম বলে গেছেন। তারা দুজনই আমেরিকা প্রবাসী রাসেল হোসাইনের ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরে হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে যুবদল নেতা নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শাকিল হত্যা মামলায় আনিসুর রহমান ও মো. আল-আমিন নামের আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।


