চীনা হামলা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুহূর্তে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে কী ঘটতে পারে- তা বাস্তবে অনুভব করাতে এবারই প্রথম বার্ষিক যুদ্ধ মহড়ার অংশ হিসেবে দ্বীপের মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিয়েছে তাইওয়ান।
সোমবার (১০আগস্ট) এ মহড়া চালানো হয়।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন। বহু বছর ধরে চীনা আগ্রাসনের আশঙ্কা মাথায় নিয়েই দিন কাটাচ্ছে দ্বীপটি। প্রতি বছরের মতো এবারও যুদ্ধ মহড়ার পাশাপাশি বিমান হামলা প্রতিরোধ মহড়া চালানো হয়, যেখানে ৩০ মিনিটের জন্য রাস্তাঘাট থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মধ্য তাইওয়ানের বড় শহর তাইচুংকে কেন্দ্র করে চালানো এই ইন্টারনেট ‘থ্রটলিং’ মহড়ায় শুধু মোবাইল ফোনের মৌলিক সেবা চালু রাখা হয়। তবে এটিএম, ট্রাফিক সিগন্যাল, ল্যান্ডলাইন ফোন ও স্থায়ী ইন্টারনেট সংযোগ- এসব কিছুই স্বাভাবিক ছিল।
মহড়া চলাকালে তাইচুংয়ে বেজে ওঠে বিমান হামলা সতর্কতা সাইরেন। স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় (গ্রিনিচ মান সময় সকাল সাড়ে ৬টা) রাস্তা ফাঁকা করে দেন সাধারণ মানুষ।
একই সময় মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে চীনা ও ইংরেজি ভাষায় বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়,‘যোগাযোগ অবকাঠামোয় কাল্পনিক বিমান হামলা’ চলছে।
মহড়ার বিষয়ে আগে থেকেই ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল সরকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেওয়া হয়েছিল বিস্তারিত তথ্য।
৪৬ বছর বয়সী লিন হং-চুন বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যেমন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তাইওয়ানও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকায় এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে সহায়তা করে- কী ঘটতে পারে আর কীভাবে সাড়া দিতে হবে, তা জানার সুযোগ তৈরি করে।
তবে সমর্থনের পাশাপাশি কিছুটা অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে। ২৩ বছর বয়সী ইয়েন পো-থিং বলেন, বাইরে গিয়ে এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেয়ে বাড়িতে থাকলেই ভালো হতো, কারণ বাইরে থেকে বিষয়টি অনুভব করা বেশ কষ্টকর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) একই ধরনের মহড়া চালানো হবে উত্তর তাইওয়ানে, যার মধ্যে থাকছে রাজধানী তাইপেও।
চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইওয়ান সরকার। তাদের ভাষ্য, দ্বীপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র সেখানকার জনগণের।
সোমবার সকালে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেংহু দ্বীপপুঞ্জে চীনা বিমান অবতরণ আক্রমণ প্রতিহত করার মহড়া চালায়। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী ‘হান কুয়াং’ মহড়ায় চীন সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপ দখলের চেষ্টা চালালে কী ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে, তারই বিভিন্ন দৃশ্যপট অনুশীলন করা হচ্ছে।
তাইওয়ান প্রণালীতে অবস্থিত পেংহুর একটি সৈকতে ভোরের আগে প্রথম থিয়েটার কমান্ডের সেনারা M60A3 ট্যাংক, বিভিন্ন কামান ও বিমান-বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে গুলি চালান।
সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, দ্রুত উপকূলে অবতরণের চেষ্টাকারী কাল্পনিক শত্রুবাহিনী মোকাবিলায় সেনারা গড়ে তোলেন একটি ‘বহু-স্তরীয়’ প্রতিরক্ষা ব্যুহ।
তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডের তুলনায় চীনের চেয়ে কাছাকাছি অবস্থিত পেংহুকে বেইজিংয়ের সম্ভাব্য প্রথম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করেন তাইওয়ানি কৌশলবিদরা। তাদের আশঙ্কা, এই দ্বীপপুঞ্জ দখল করে সেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে মূল তাইওয়ানকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে চীন।
মহড়ায় অংশ নেন পেংহুর রিজার্ভ সেনারাও, যা তাদের ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিরই অংশ।
রিজার্ভ বাহিনীকে অপারেশনাল পরিকল্পনায় আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা এবং প্রস্তুতিকে বাস্তবসম্মত করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী।

