...|...|...

সারাদেশ

চিফ হুইপের হেলিকপ্টার অবতরণে ভাঙা হলো ১০ দোকান

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:১১
Shares
চিফ হুইপের হেলিকপ্টার অবতরণে ভাঙা হলো ১০ দোকান

ছবি: প্রতিনিধি

বরগুনায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিকে বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য সার্কিট হাউসের ঈদগাহ মাঠের ১০টি ভ্রাম্যমাণ দোকান ভেঙে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্বল্প পুঁজির এসব ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগে থেকে না জানিয়ে তাদের দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে।  এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা পৌর শহরে বিনোদনের উল্লেখযোগ্য স্থান কম থাকায় প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সার্কিট হাউসের সামনের ঈদগাহ মাঠে সময় কাটাতে আসেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ—প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষের সমাগম হয় সেখানে। তাদের কেন্দ্র করে মাঠটিতে প্রায় ৩০টি ভ্রাম্যমাণ দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানের আয় দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

বুধবার দুপুরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি হেলিকপ্টারে বরগুনায় আসেন। তার হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য মাঠ খালি করতে সকালে জেলা প্রশাসনের লোকজন ১০টি দোকান ভেঙে দেন। ভেঙে ফেলা দোকানের কিছু অংশ পাশের লেকেও ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের দোকান ও পুঁজি নষ্ট হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, মাঠে সরকারি কোনো কর্মসূচি থাকলে আগে তাদের জানানো হতো। তখন তারা নিজেরাই দোকান সরিয়ে নিতেন। কিন্তু বুধবার সকালে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই জেলা প্রশাসনের লোকজন এসে দোকান ভেঙে দেন। এতে তাদের সর্বস্ব হারানোর উপক্রম হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

তবে জেলা প্রশাসনের নাজির মোহাম্মদ তানসেন বলেন, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিকে বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য জায়গাটি খালি করা প্রয়োজন ছিল। সকালে মাইকিং করা হলেও ব্যবসায়ীরা দোকান সরাননি। এ কারণে বাধ্য হয়ে দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দোকান ভাঙার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিসুর রহমান। তিনি বলেন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দোকান ভেঙে দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি।

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, ঈদগাহ মাঠে দোকানগুলোর বাইরে হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য পর্যাপ্ত খালি জায়গা ছিল। সেখানে হেলিকপ্টার নামানোর ব্যবস্থা না করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান ভেঙে দেওয়া অমানবিক। প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং প্রশাসনকে আরও মানবিক হতে হবে।

মনির হোসেন কামাল আরও অভিযোগ করেন, আজকে বরগুনায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হয়েছে। চিফ হুইপ শহরের যেসব এলাকায় যাবেন, সেসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে আজ আমাদের অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হয়েছে। চিফ হুইপকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বাড়াবাড়ি করেছে।