...|...|...

অপরাধ

চাঁদা দিয়েই সুন্দরবনে ঢুকছেন জেলেরা, দস্যুদের হাতে জিম্মি বনজীবীরা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১০ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:০৬
Shares
চাঁদা দিয়েই সুন্দরবনে ঢুকছেন জেলেরা, দস্যুদের হাতে জিম্মি বনজীবীরা

ছবি: সংগৃহীত

টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে  আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আবারও উন্মুক্ত হয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। বনটির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণ বন্ধ ছিল।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের হাজারো জেলে নতুন করে জীবিকার সন্ধানে নদী ও খালে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। একই সাথে পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। তবে বনজীবীদের এই স্বস্তির সময়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জলদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অপতৎপরতা নিয়ে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জসংলগ্ন গাবুরা এলাকার বনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বনে যাওয়ার আগেই বিভিন্ন দস্যু বাহিনীকে চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দিলে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের আশঙ্কায় অনেক জেলেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না।

স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, সাতক্ষীরা অঞ্চল ঘিরে অন্তত তিনটি দস্যু বাহিনী সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের মধ্যে ‘বড় জাহাঙ্গীর’, ‘দয়াল-নানা ভাই ওরফে ডন আনারুল’ এবং ‘মঞ্জু ও দুলাভাই বাহিনী’ রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এসব বাহিনীতে শতাধিক সশস্ত্র সদস্য রয়েছে বলেও দাবি বনজীবীদের।

জেলেদের অভিযোগ, বনে প্রবেশের আগে প্রতিটি নৌকার জন্য পৃথকভাবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। তিনটি বাহিনীকে চাঁদা দিতে হলে একটি নৌকার পেছনে মোট ৭৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

বনজীবীদের ভাষ্য, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জিম্মি করে আরও বেশি অর্থ আদায়ের ভয় দেখানো হয়। ফলে অনেক জেলেকে ঋণ করে হলেও দস্যুদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করে বনে যেতে হচ্ছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য প্রায় ২ হাজার ৯০০টি বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) রয়েছে। প্রতিটি নৌকায় সাধারণত দুই থেকে তিনজন জেলে থাকেন। সে হিসাবে প্রায় ৯ হাজার মানুষের জীবিকা সরাসরি এই বন ও এর জলজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় কয়েকজন বনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন পর বনে যাওয়ার সুযোগ পেলেও দস্যুদের চাঁদার কারণে তাদের আয় থেকে বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে। অনেকেই ধারদেনা করে নৌকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছেন। এখন সেই ঋণের বোঝার সাথে দস্যুদের চাঁদার অর্থও যোগ হচ্ছে।

তবে বনজীবী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। দস্যুদের তৎপরতা ঠেকাতে কোস্টগার্ডের পাশাপাশি বন বিভাগের স্মার্ট পেট্রোলিং দল ও বনকর্মীরা নিয়মিত টহল দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বলেন, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বন বিভাগের অনুমতিপত্র নিয়েই জেলেদের বনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। বনের ভেতরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, হরিণ শিকারসহ যেকোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।