...|...|...

ধর্ম

গিবত সম্পর্কে মহানবী (সা.) এর কঠোর নির্দেশনা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৫০
Shares
গিবত সম্পর্কে মহানবী (সা.) এর কঠোর নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের চরিত্র ও সম্মান রক্ষায় ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। অথচ সমাজে অনেক সময় আড্ডা, আলোচনা কিংবা কথোপকথনের নামে অন্যের দোষ নিয়ে আলোচনা করা হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষের কথা বলা, যা সে শুনলে অপছন্দ করবে, তাকে গিবত বলা হয়। গিবত শুধু সামাজিকভাবে নিন্দনীয় নয়, বরং ইসলামে এটি গুরুতর গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কি জানো গিবত কী? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসুলই বেশি জানেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে।’ একজন সাহাবি প্রশ্ন করলেন, আমি যে কথা বলছি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে সত্যিই থাকে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে থাকে, তবে তুমি তার গিবত করলে। আর যদি তার মধ্যে না থাকে, তবে তুমি তার ওপর অপবাদ আরোপ করলে।’ -সহিহ মুসলিম

গিবতের ভয়াবহতা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনেও কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো এটিকে ঘৃণাই করবে।’ -সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২

এই আয়াতের মাধ্যমে গিবতের জঘন্যতা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। কারণ গিবত মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন করে, পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে এবং সমাজে বিদ্বেষ ও বিভেদ সৃষ্টি করে।

তাই একজন মুমিনের উচিত নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখা এবং অন্যের দোষচর্চা থেকে বিরত থাকা। কারও ভুল বা দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করার পরিবর্তে সংশোধনের উদ্দেশ্যে তাকে গোপনে পরামর্শ দেওয়া ইসলামের শিক্ষা। গিবত থেকে বেঁচে থাকা এবং অন্যের সম্মান রক্ষা করা একজন প্রকৃত মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।