...|...|...

খেলা

ক্রীড়াক্ষেত্রে বয়স জালিয়াতি, বহিষ্কার ৫০০ অ্যাথলেট

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৪৭ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৪:১৯
Shares
ক্রীড়াক্ষেত্রে বয়স জালিয়াতি, বহিষ্কার  ৫০০ অ্যাথলেট

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে বয়স জালিয়াতির বিষয়টি আবারও বড় আকারে সামনে এসেছে। অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বয়স কম দেখানোর অভিযোগে একসাথে প্রায় ৫০০ কুস্তিগিরকে বহিষ্কারের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বয়সভিত্তিক খেলাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও যাচাইব্যবস্থা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোপিংয়ের মতো বয়স জালিয়াতির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

গত জুনে উত্তর প্রদেশের গোন্ডায় অনুষ্ঠিত ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে এই বিপুলসংখ্যক কুস্তিগিরকে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাথে কথা বলেছেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় স্পোর্টস আইনজীবী ও এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্রের লেখক আহনা মেহরোত্রা। তিনি বলেন, বয়স জালিয়াতি এখন অনেকটা মহামারির রূপ নিয়েছে।

মেহরোত্রার মতে, যেসব খেলায় বয়সের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা হয়, সেগুলোর প্রায় সবখানেই এই প্রবণতা দেখা যায়। তবে সাব জুনিয়র ও জুনিয়র পর্যায়ে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি। কারণ এই বয়সে ভালো ফল করতে পারলে খেলোয়াড়রা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। অথচ এসব পর্যায়ে খেলোয়াড়দের নথিপত্র যাচাই ও নজরদারি তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

বয়স জালিয়াতির পেছনে ভারতের দুর্বল জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সাথে ক্রীড়াবিদদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেস না থাকায় অসাধু অভিভাবক ও কোচদের একাংশ এই ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

শুধু কুস্তিতেই নয়, ভারতের স্কুল ফুটবলেও এমন অভিযোগ রয়েছে। গোন্ডার ঘটনার এক বছরেরও কম সময় আগে দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা সুব্রতো কাপে বয়স জালিয়াতির অভিযোগে ২০টি দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

ক্রিকেটেও কম বয়স দেখানোর প্রবণতা একজন উঠতি খেলোয়াড়কে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স করলে ভবিষ্যতে বড় পর্যায়ে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এমনকি কোটি টাকার আইপিএলে দল পাওয়ার ক্ষেত্রেও কম বয়সের খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারেন।

ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অব স্পোর্টস মেডিসিনের সভাপতি পিএসএম চন্দ্রন এর তথ্য মতে,তিনি বয়স জালিয়াতিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, আধুনিক খেলাধুলায় ডোপিংয়ের মতো বয়স জালিয়াতিও বড় অভিশাপ হয়ে উঠেছে এবং এ অপরাধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকা উচিত।

চন্দ্রনের দাবি, বয়স জালিয়াতি ব্যাপকভাবে চললেও তা ঠেকাতে বর্তমান ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনও এখন পর্যন্ত সমস্যাটি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। ক্রিকেট বোর্ড সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উদ্যোগ নিলেও অন্য ফেডারেশনগুলোকেও আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তার প্রশ্ন, ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে যখন কঠোর শাস্তি রয়েছে, তখন বয়স জালিয়াতির ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা থাকবে না কেন?