ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের আগে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে নিজের পছন্দের কথা জানালেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে ‘বিশ্বের সেরা’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। নেইমারের এমন মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, নেইমার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পরিসংখ্যানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম সোফাস্কোরের একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে ইয়ামালের চলতি মৌসুমের পারফরম্যান্সের সঙ্গে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) নেইমারের ২০১৭-১৮ মৌসুমের পরিসংখ্যান তুলনা করা হয়। পোস্টে ইয়ামালকে ট্যাগ করে নেইমার লেখেন, ‘বিশ্বের সেরা।’
তবে নেইমারের এই মন্তব্যকে তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এটি ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ফলাফল কিংবা বিশ্বের সেরা ফুটবলার নির্ধারণের কোনো স্বীকৃত ঘোষণা নয়।
সোফাস্কোরের শেয়ার করা গ্রাফিকে চলতি মৌসুমে ১০ ম্যাচে ইয়ামালের ৮ গোল ও ৯টি অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছিল। অন্যদিকে, পিএসজিতে নিজের প্রথম মৌসুমে ২০১৭-১৮ সালে নেইমার ২৭ ম্যাচে ২৫ গোল করার পাশাপাশি ১৬টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।
দুই ফুটবলারের পারফরম্যান্সের এই তুলনা তাদের আক্রমণাত্মক দক্ষতা ও সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর সামর্থ্য সামনে এনেছে। তবে ম্যাচের সংখ্যা, প্রতিযোগিতার ধরন ও খেলার অবস্থান বিবেচনায় না নিয়ে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করা কঠিন।
বার্সেলোনার হয়ে খেলা নেইমার তরুণ বয়স থেকেই ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত ছিলেন। ইয়ামালের খেলাতেও একই ধরনের দক্ষতার ছাপ দেখা যায়। স্পেনের এই তরুণ একাধিকবার নেইমারকে নিজের ফুটবলীয় অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সম্প্রতি গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৪-১ গোলের জয়ে ইয়ামালের একটি দৃষ্টিনন্দন ড্রিবল ও অ্যাসিস্ট আলোচনায় আসে। ১৩ অক্টোবরের ওই চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে সহায়তা করার আগে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কৌশলে পরাস্ত করেন তিনি। তার ওই মুভকে অনেকে ‘সেমি-রাবোনা’ বলে অভিহিত করেছেন।
ম্যাচের পর ইয়ামাল জানান, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা তাকে মাঠের শেষ প্রান্তে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তিনি নতুন কৌশলটি প্রয়োগের সুযোগ দেখেছিলেন। তার মতে, মুভটি দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ার পাশাপাশি কার্যকরও হয়েছে।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের লন্ডন প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। পুরস্কারটির ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো লন্ডনে বসছে এই আয়োজন। ১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতা ইংলিশ ফুটবলার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের স্মরণে শহরটি বেছে নেওয়া হয়েছে।
বার্সেলোনার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে ইয়ামালকে ঘিরে এবারের পুরস্কার নিয়ে প্রত্যাশা রয়েছে। নেইমারের প্রকাশ্য সমর্থনও তরুণ তারকার প্রতি আলোচনাকে আরও বাড়িয়েছে। তবে কে জিতবেন ব্যালন ডি’অর, তা নির্ধারিত হবে পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক ভোটের ফলাফলে।


