প্রথম আলোর ওয়েবসাইট কি হ্যাক হয়েছে? হঠাৎ এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খেতে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কারণ, প্রথম আলোর রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’র এবারের প্রচ্ছদে নেই কোনো ছবি, কার্টুন কিংবা রঙের ছোঁয়া। পুরো প্রচ্ছদজুড়ে সাদা কাগজের মতো ফাঁকা জায়গা। শুধু এক জায়গায় লেখা ‘স্যরি!’। এমন ব্যতিক্রমী প্রচ্ছদ দেখে কারও মনে হয়েছে, পত্রিকার ওয়েবসাইটে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না। আবার কেউ জানতে চেয়েছেন, হঠাৎ পাঠকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হলো কেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। কেউ প্রচ্ছদটির ছবি শেয়ার করে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার মজার ছলে খুঁজেছেন এর পেছনের রহস্য। একজন পাঠক লিখেছেন, ‘রস+আলোর জন্য প্রতি রবিবার অপেক্ষা করি, তার একটা বড় কারণ এর প্রচ্ছদ। কিন্তু আজকে হাতে নিয়ে দেখি, প্রচ্ছদ একেবারে সাদা! শুধু একটা ‘স্যরি!’ হালকা ফাজলামি নাকি স্মার্ট ফাঁকিবাজি?’
তবে প্রচ্ছদটি নিয়ে আলোচনা শুধু কৌতূহল বা রসিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। অনেকেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখছেন। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে লিখছেন, ‘শুধু ‘স্যরি’ বলে কাজ হচ্ছে না? জানুন ক্ষমা চাওয়ার ১০ উপায়’। আবার কারও কারও ধারণা, প্রথম আলোর অতীতে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্যই হয়তো এই ‘স্যরি’। অবশ্য এসব মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া; প্রচ্ছদটির পেছনের কারণ হিসেবে এগুলোর কোনোটি নিশ্চিত নয়।
শুধু পাঠকরাই নন, ব্যতিক্রমী এই প্রচ্ছদ নজর কেড়েছে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানেরও। তিনিও রস+আলোর ‘স্যরি’ লেখা প্রচ্ছদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন।
তবে প্রচ্ছদের রহস্যের উত্তর লুকিয়ে আছে রস+আলোর ভেতরেই। এবারের সংখ্যায় ‘রসক্লেইমার’ শিরোনামে ‘স্যরি!’ লিখে পাঠকদের কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছে সাময়িকীটি। লেখক আহমেদ ইশতিয়াকের এই লেখায় মজার ছলে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের মধ্যে আইডিয়াও যেন সংকটে পড়েছে। রস+আলোর বি.স.-এরও তাই জুতসই প্রচ্ছদের আইডিয়া মিলছে না। আর আইডিয়া করতে গেলেই নাকি মাথায় আসে, ‘কয়দিন জেল খাটা লাগতে পারে!’
পাঠকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে লেখায় বলা হয়েছে, ‘আইডিয়া-সংকটের জন্য এই সংখ্যায় আপনাদের খুশি করতে পারলাম না। মানে, কভার দিতে পারলাম না।’
তবে প্রচ্ছদ ফাঁকা রেখে পাঠকদের শুধু ‘স্যরি’ বলেই দায়িত্ব শেষ করেনি রস+আলো। বরং ফাঁকা জায়গাটিকে পাঠকদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। রংপেনসিল নিয়ে নিজের পছন্দমতো প্রচ্ছদ এঁকে সেটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রস+আলোর অফিশিয়াল পেজ ট্যাগ করে পোস্ট করার আহ্বান জানিয়েছে সাময়িকীটি।
ঘোষণা অনুযায়ী, পাঠকদের পাঠানো প্রচ্ছদ থেকে সেরা তিনটি ছাপা হবে পরবর্তী সংখ্যায়। বিজয়ীদের জন্য থাকছে ৫০০ টাকা করে অর্থ পুরস্কার। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে ৫০০ টাকাও যে খুব বেশি কিছু নয়, সে কথাও বাদ যায়নি লেখার রসিকতা থেকে।
অর্থাৎ, যে প্রচ্ছদ দেখে প্রথমে অনেকের মনে হয়েছিল কোনো সমস্যা হয়েছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে পাঠকদের অংশগ্রহণের এক অভিনব আয়োজন। প্রচ্ছদ না থাকার ‘স্যরি’ দিয়ে পাঠকদের হাতেই প্রচ্ছদ তৈরির দায়িত্ব তুলে দিয়েছে রস+আলো।

