দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকার কথা ছিল এক সরকারি কর্মকর্তার। কিন্তু কারাগারের বদলে তাকে পাওয়া গেল হাসপাতালের একটি বিশেষ কক্ষে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ওই কক্ষে তার সঙ্গে অবস্থান করছিলেন এক তরুণী, যিনি নিজেকে ওই কর্মকর্তার প্রেমিকা বলে পরিচয় দিয়েছেন।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্ণাটকের মান্ডিয়া জেলায়। জেলা ও দায়রা জজ সি চন্দ্রশেখরের আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুসাইন শ্রীরঙ্গপাটনার সহকারী পরিচালক, ভূমি রেকর্ড (এডিএলআর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হিসাব-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে তাকে কর্ণাটক লোকায়ুক্তের পুলিশ গ্রেফতার করে। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর তাকে কারাগারে রাখা হয়। তবে পরে কারাগার থেকে তাকে মান্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এমআইএমএস) ভর্তি করা হয়।
হুসাইনের হাসপাতালে থাকার খবর জানতে পেরে আকস্মিক পরিদর্শনে যান জেলা ও দায়রা জজ সি চন্দ্রশেখর। একটি দল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তিনি সরাসরি ওই কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করেন।
সেখানে গিয়ে বিচারক দেখতে পান, হুসাইনের জন্য নির্ধারিত বিশেষ কক্ষে এক তরুণীও রয়েছেন। তার পরিচয় জানতে চাইলে ওই নারী নিজেকে হুসাইনের প্রেমিকা বলে দাবি করেন।
ঘটনাটি দেখে কর্মকর্তাকে হাসপাতালে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারক। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানতে চান, কী ধরনের শারীরিক সমস্যার কারণে একজন কারাবন্দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে গুরুতর কোনো অসুস্থতার তথ্য পাওয়া যায়নি, যার জন্য তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।
এরপর হুসাইনকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিচারক কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান, আদালতের অনুমতি বা অবহিতকরণ ছাড়াই কীভাবে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হলো।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারের চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতেই হুসাইনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে আদালতকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না- এ প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, আদালতকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।
এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারক। কারা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি।
হুসাইনকে হাসপাতালে ভর্তি করার চিকিৎসাগত প্রয়োজনীয়তা, কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং একজন কারাবন্দি কীভাবে হাসপাতালের বিশেষ কক্ষে বাইরের এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান করছিলেন- সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এ জন্য কারা কর্তৃপক্ষ ও এমআইএমএসের চিকিৎসা কর্তৃপক্ষকে পৃথক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে কারাগারের বদলে হাসপাতালে বিশেষ সুবিধা পেলেন এবং সেখানে তার সঙ্গে একজন বাইরের নারী কীভাবে অবস্থানের সুযোগ পেলেন। তদন্ত প্রতিবেদনেই এখন এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি


