...|...|...

সারাদেশ

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী তীরে ফের দখল: ১৫ দফতরে চিঠি

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী তীরে ফের দখল: ১৫ দফতরে চিঠি

Times Today
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ভোর রাত ৫:০৭ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭
Shares
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী তীরে ফের দখল: ১৫ দফতরে চিঠি

 

কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাট এলাকায় বাঁকখালী নদীর তীরভূমিতে উচ্ছেদ হওয়া সরকারি জমি আবারও দখলের অভিযোগ উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র  বলে জানিয়েছে  গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের রাত থেকেই নতুন করে দখল কার্যক্রম শুরু হয়। মাত্র দুই দিনে সেখানে অন্তত ৩০টি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দখল বন্ধ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ১৫টি দফতরে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল স্বাক্ষরিত চিঠিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের সীমানাধীন বাঁকখালী নদী ও তীরভূমিতে গত বছরের ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে প্রায় ৬৩ একর নদী ও তীরভূমি উদ্ধার করা হয় এবং ৪৯৬টি কাঁচা-পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

পরবর্তীতে সীমানা নির্ধারণ করে পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে তিনটি এবং পুলিশের পক্ষ থেকে একটি
—মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোতে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১,৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর মধ্যেই পুনরায় দখল শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল বলেন, ‘
যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল, তারাই আবার দখল কার্যক্রমে জড়িত। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিআইডব্লিউটিএ শাখার সচিব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)’র প্রশাসন ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক, বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের সমন্বয় কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা ও পরিচালনা সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীকে। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার, কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), পরিবেশ অধিদফতর–এর কক্সবাজারের পরিচালক ও মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–এর উপ-পরিচালক (প্রশাসন), জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন–এর চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, বাংলাদেশ পুলিশ–এর মহাপরিদর্শক (আইজিপি)’র পিএস এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিবের কাছেও চিঠির অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

নদী রক্ষা ও সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।